পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে এবারও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ঈদের জামাত ঘিরে জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বুধবার জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ঈদকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ঈদগাহের প্রতিটি প্রবেশপথে থাকবে কঠোর তল্লাশি ও নজরদারি।
তিনি বলেন, মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য মোট পাঁচটি গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি পুরুষদের এবং একটি নারী মুসল্লিদের জন্য রাখা হয়েছে। নারী মুসল্লিদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাহ ময়দান এবং আশপাশের এলাকা আগেভাগেই বিশেষ নিরাপত্তা তল্লাশির আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখা, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড যৌথভাবে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারে ঈদগাহের চারপাশে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। আকাশপথ থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকবে ড্রোন নজরদারি। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সোয়াট, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেররিজম টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ঈদের দিন যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব ও হাইকোর্টসংলগ্ন এলাকায় ব্যারিকেড ও তল্লাশি জোরদার করা হবে। মুসল্লিদের নির্ধারিত পার্কিং নির্দেশনা অনুসরণ করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপি কমিশনার নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঈদগাহে শুধু জায়নামাজ ও প্রয়োজন হলে ছাতা নিয়ে আসতে। কোনো ধরনের ব্যাগ, ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ কিংবা অপ্রয়োজনীয় ধাতব জিনিস সঙ্গে না আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঈদগাহে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। সন্দেহজনক কোনো কিছু নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর সবচেয়ে বড় এই ঈদের জামাতে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। তাই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবার আগেভাগেই সমন্বিত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

