দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা আবারও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই সময়ে হামের নিশ্চিত সংক্রমণে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। নতুন মৃত্যুর ঘটনায় দেশে হাম ও উপসর্গে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব প্রকাশ করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হামের নিশ্চিত সংক্রমণে মারা গেছে ৮৮ জন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪৭২ জনের। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিশ্চিত সংক্রমণ ও উপসর্গভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬২ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৩৪ জনে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৫৬ শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৭ হাজার ৭৯ জন।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকা না পাওয়া, অপুষ্টি এবং গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তারা শিশুদের দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। শিশুদের জ্বর বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা না গেলে সামনের দিনগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

