দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত জটিলতায় শিশু মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৮৭৭ শিশু। এতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত চিন্তার বলে মনে করছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে তিনজন ঢাকার, একজন সিলেটের এবং একজন বরিশালের বাসিন্দা। একই সময়ে ৮২৬ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে এবং পরীক্ষায় ৫১ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৪৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর আরও ৮৮ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য খাতে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ, প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা না হলে হাম থেকে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ৬৭ হাজার ৯০৫ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৪ হাজার ১৮২ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তবে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫০ হাজার ৯২৬ শিশু।
এদিকে একই সময়ে ৮ হাজার ৮৮৫ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত ও উপসর্গের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
জনস্বাস্থ্যবিদেরা মনে করছেন, অনেক এলাকায় শিশুদের নিয়মিত টিকা না নেওয়া, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং মৌসুমি সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিশুদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখতে হবে এবং পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে শিশুদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও টিকাদান কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে টিকা কার্যক্রমে শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। অন্যথায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

