চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেল্লাপাড়া ব্রিজসংলগ্ন তালতল ক্রসিং এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রুতগতিতে চলা একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টো পথে কর্ণফুলী ক্রসিংয়ের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লেগুনার সঙ্গে বাসটির তীব্র সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের আঘাতে লেগুনাটি মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আর্তনাদ।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ১০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। কারণ দুর্ঘটনার পর অনেককে নিকটবর্তী বিভিন্ন ক্লিনিকেও নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটির গতি ছিল অত্যন্ত বেশি। শুধু তাই নয়, উল্টো পথে গাড়ি চালানোর কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে রাতে অনেক চালক ট্রাফিক নিয়ম না মেনেই গাড়ি চালান। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
দুর্ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বাস ও লেগুনা জব্দ করা হলেও দুই গাড়ির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা এখন এক ভয়াবহ সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত গতি, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে প্রায় প্রতিদিনই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান চালালেই হবে না, চালকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি এবং কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি।
কর্ণফুলীর এই দুর্ঘটনাও আবার মনে করিয়ে দিল, সামান্য অসচেতনতা বা বেপরোয়া সিদ্ধান্ত কত দ্রুত কয়েকটি পরিবারের জীবনে অন্ধকার নামিয়ে আনতে পারে।

