সাবেক সংসদ সদস্য ও আলোচক গোলাম মাওলা রনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর শাসনামল নিয়ে তীব্র সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত ও সমালোচিত শাসন ছিল ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সময়কাল।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বক্তব্যে গোলাম মাওলা রনি এসব মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, ড. ইউনূসের সময় যারা উপদেষ্টা বা ঘনিষ্ঠ মহলে যুক্ত ছিলেন, বর্তমানে তারা অনেকেই জনসমালোচনার মুখে পড়েছেন এবং নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, ড. ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত বিভিন্ন পক্ষ ধীরে ধীরে জনঅসন্তোষের মুখোমুখি হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশনীতি, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত এবং ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ প্রভাব বলয় নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, বর্তমানে অনেকেই নিজেদের দায় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ দাবি করছেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে তারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন না; বরং একটি বিশেষ অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী বা ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ এসব সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করত।
তার বক্তব্যে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ পরামর্শক মহলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল। তবে এখন তাদের অনেকেই প্রকাশ্যে আসছেন না কিংবা নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করছেন।
সাবেক এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর জন্য অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে জনমতের গুরুত্ব উপেক্ষা করলে রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে গোলাম মাওলা রনির উত্থাপিত অভিযোগ ও মন্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অতীত সরকার ও অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ কাঠামো, উপদেষ্টাদের প্রভাব এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও আবার সামনে চলে আসছে।

