দেশের আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন এসেছে ঢাকার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আধুনিক এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে। নতুন এটিসি টাওয়ার ও উন্নত রাডার প্রযুক্তি চালুর পর আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ আরও নির্ভুল ও বিস্তৃত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আকাশপথ ব্যবহারকারী উড়োজাহাজ থেকে আদায় হওয়া ফ্লাইং ওভার চার্জে, যেখানে ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই এ খাত থেকে প্রায় ১৯৯ কোটি টাকার কাছাকাছি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এর আগের বছরগুলোর একই সময়ের তুলনায় এই অঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কার্যকারিতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আকাশপথ ব্যবহার করে যাওয়া আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজগুলোর ওপর নজরদারি সক্ষমতা বাড়ায় অনেক ফ্লাইট, যা আগে পর্যবেক্ষণের বাইরে থাকত, এখন সেগুলোও সঠিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এতে নির্ধারিত ফি আদায় প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় এই পরিবর্তন শুধু রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয় নয়; বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও বিমান চলাচল ব্যবস্থার আধুনিকায়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। উন্নত রাডার প্রযুক্তির কারণে এখন আকাশপথের প্রতিটি চলাচল প্রায় রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে, যা ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করছে।
আগে ব্যবহৃত রাডার ব্যবস্থা সীমিত সক্ষমতার কারণে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন আকাশসীমার একটি অংশে পূর্ণ নজরদারি সম্ভব ছিল না। ফলে কিছু উড়োজাহাজ নির্ধারিত চার্জের বাইরে থেকে যেত। নতুন প্রযুক্তি সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রাডার, যা বহু নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। পাশাপাশি উন্নত সেকেন্ডারি সার্ভেল্যান্স ব্যবস্থা আকাশপথের প্রতিটি ফ্লাইটকে আরও নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করছে। এতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কার্যক্রমও আগের তুলনায় অনেক দ্রুত ও সমন্বিত হয়েছে।
বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রযুক্তির ফলে এখন আকাশপথ ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হয়েছে। ফ্লাইট পরিচালনায় সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়েছে এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হয়েছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিদেশি উড়োজাহাজ থেকে ফি আদায়ের প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়েছে। এর ফলেই রাজস্ব আয়ে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উন্নয়ন ভবিষ্যতে শুধু বিমান খাত নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ আকাশপথ থেকে অর্জিত অতিরিক্ত রাজস্ব অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণে পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আধুনিক আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যেখানে নিরাপত্তা, দক্ষতা এবং রাজস্ব—তিনটি ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।

