বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে খাদ্যসামগ্রী, বস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবাও দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থিত রাজধানী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। দিনব্যাপী চলা এ আয়োজনে বিপুলসংখ্যক নিম্নআয়ের মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। সেই আদর্শকে সামনে রেখেই এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর একটি স্থানে উদ্বোধনের মধ্যেই কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকছে না। দিনের বাকি সময় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার আরও ১৬টি স্থানে দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাবার, পোশাক এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হবে। এর ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ এ সহায়তার আওতায় আসবেন। এর আগে সকালে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি ফুলেল শ্রদ্ধা জানান এবং প্রয়াত রাষ্ট্রনায়কের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি এবং দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, গণসংযোগ, দুস্থ মানুষের মাঝে সহায়তা বিতরণ এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ। দলটির নেতারা বলছেন, জিয়াউর রহমানের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এসব আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেশের বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে তাঁর অনুসারীরা মনে করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সামরিক বিদ্রোহের ঘটনায় তিনি নিহত হন।
প্রতিবছর ৩০ মে বিএনপি দিনটিকে ‘শাহাদাতবার্ষিকী’ হিসেবে পালন করে। এ উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমও আয়োজন করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্মরণসভা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আয়োজনের মাধ্যমে দলটি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোরও চেষ্টা করে।
এবারের কর্মসূচিতে দরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্য, পোশাক ও চিকিৎসাসেবা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এর সামাজিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এ ধরনের সহায়তা কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

