জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষিত আলোচিত অ্যালবিনো মহিষকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে চিড়িয়াখানার কিউরেটরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মহিষটির নামকরণ এবং পরে সেই নামের ভুল বানান প্রদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি চিড়িয়াখানায় প্রদর্শিত বিরল প্রজাতির সাদা-গোলাপি রঙের মহিষটির পরিচিতি ফলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অনুসারে রাখা নাম ভুলভাবে লেখা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা এবং বিদ্রুপের জন্ম দেয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন রাষ্ট্রনেতার নাম ব্যবহার এবং সেই নামও ভুলভাবে উপস্থাপন করাকে প্রশাসনিক মহলে অস্বস্তিকর ঘটনা হিসেবে দেখা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিষয়টি শুধু বানান ভুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রাণীর নামে বিদেশি রাষ্ট্রনেতার নাম বহাল রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। পরবর্তীতে এ নিয়ে আলোচনা সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত পৌঁছায়। এরপরই চিড়িয়াখানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পদায়নে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে পরিচালক-সমমানের পদে বদলি করা হয়েছে। তাকে লিভ, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং রিজার্ভে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই আদেশে ওই পদে নতুন কিউরেটর হিসেবে ডা. মো. হাবিবুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বদলির নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকলেও জনস্বার্থে এ রদবদল করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ঈদুল আজহার আগে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে বিরল বৈশিষ্ট্যের ওই অ্যালবিনো মহিষ। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের প্রাণীটির শরীরের রঙ, মাথার সামনের অংশে সোনালি আভাযুক্ত লোম এবং কিছু ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা এর নাম রাখেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোরবানির পশুর বাজারে মহিষটি ব্যাপক আকর্ষণ সৃষ্টি করে এবং দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও স্থান পায়।
পরে মহিষটিকে কোরবানি থেকে বিরত রেখে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় সরকার। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে প্রাণীটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় আনা হয় এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।
কিন্তু চিড়িয়াখানায় আনার পর নতুন বিতর্ক শুরু হয়। প্রাণীটির নামফলকে নামের বানান ভুল লেখা হয়, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সমালোচনার মুখে কর্তৃপক্ষ প্রথমে ফলক পরিবর্তন করে এবং পরে প্রাণীটির নামও পরিবর্তন করে ‘সাদা মহিষ’ রাখে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, একটি প্রাণীকে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের নামে প্রদর্শন করা শুরু থেকেই সংবেদনশীল বিষয় ছিল। পরবর্তীতে সেই নামের ভুল বানান প্রকাশ পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর হয়ে ওঠে। ফলে পুরো বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট মহলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা, পেশাদারিত্ব এবং কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালবিনো মহিষকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই বিষয়টিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

