নেত্রকোণার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে জেলা পুলিশ প্রশাসন এ পদক্ষেপ নেয়। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোণার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, অভিযোগ সামনে আসার পরপরই ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে একজন ব্যক্তিকে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এমন কিছু মন্তব্য করতে শোনা যায়, যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পুলিশি দায়িত্ব, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত নানা বক্তব্য উঠে আসে। বিশেষ করে চাকরিকে ‘এক ধরনের ব্যবসা’ হিসেবে উল্লেখ করার অভিযোগটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অডিওতে আরও শোনা যায়, থানার বিভিন্ন কার্যক্রমে সমন্বয়, সদস্যদের মধ্যে সুবিধা বণ্টন এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ওসি মো. আবুল হাশেম দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া অডিওতে যে কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে তা তার নয়। তিনি বলেন, কীভাবে এমন একটি রেকর্ড তার নামে প্রচারিত হচ্ছে, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই। অডিওটির সত্যতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে জেলা পুলিশ প্রশাসন বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তদন্ত কমিটি অডিওর উৎস, কণ্ঠ শনাক্তকরণ এবং বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করবে। প্রয়োজন হলে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণেরও আশ্রয় নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে অভিযোগ মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হলে সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বাহিনীর জবাবদিহি ও পেশাগত নৈতিকতা নিয়ে জনপরিসরে যখন আলোচনা বাড়ছে, তখন এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে ভাইরাল অডিওর পেছনের বাস্তবতা এবং অভিযোগের সত্যতা কতটুকু।

