পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ সোমবার (১ জুন) থেকে আবারও স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরছে দেশ। টানা সাত দিনের ছুটি কাটিয়ে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজারে শুরু হচ্ছে নিয়মিত কার্যক্রম।
ঈদকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন দেশের অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি বা প্রিয় গন্তব্যে ছুটে গিয়েছিলেন। সেই আনন্দঘন সময় শেষে এখন আবার কর্মস্থলে ফেরার পালা। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ধীরে ধীরে ফিরে আসছে কর্মব্যস্ত পরিবেশ।
ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার আগের দিন থেকেই রাজধানীমুখী মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় ফিরেছেন। রোববার দিনভর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও নৌঘাটগুলোতে ছিল যাত্রীদের ভিড়। এর প্রভাব রাজধানীর বিভিন্ন সড়কেও দেখা গেছে। কয়েক দিনের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে এবং ব্যস্ততা ফিরতে শুরু করেছে নগরজীবনে।
তবে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে অফিসপাড়ায় পূর্ণ কর্মচাঞ্চল্য নাও দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ অনেক কর্মী এখনও ছুটির আমেজ কাটিয়ে উঠতে পারেননি। আবার কেউ কেউ দীর্ঘ যাত্রা শেষে কর্মস্থলে ফিরছেন। ফলে দিনের একটি বড় অংশ সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও কুশলাদি জানাতেই কেটে যেতে পারে।
এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয় ২৮ মে। ঈদ উপলক্ষে সরকার আগেই ছয় দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল। পরে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নির্বাহী আদেশে আরও এক দিন ছুটি বাড়ানো হয়। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি ভোগের সুযোগ পান। একই সঙ্গে ব্যাংক, বিমা ও বেসরকারি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানও এই ছুটির সুবিধা দেয়।
যদিও এই দীর্ঘ ছুটির সমন্বয় করতে চাকরিজীবীদের ২৩ মে, যা ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন, সেদিন অফিস করতে হয়েছিল। এর ফলে কর্মঘণ্টার ভারসাম্য বজায় রেখে দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়।
ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানী প্রায় ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। ব্যস্ত সড়কগুলো ছিল অনেকটাই যানজটমুক্ত, আর কর্মচাঞ্চল্যে ভরা অফিসপাড়া পরিণত হয়েছিল নিরিবিলি এলাকায়। তবে আজ থেকে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করবে। ধীরে ধীরে পুরোনো ছন্দে ফিরবে প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং আর্থিক লেনদেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ছুটির পর কর্মস্থলে ফেরার প্রথম কয়েক দিন সাধারণত পুনর্বিন্যাসের সময় হিসেবে কাজ করে। জমে থাকা ফাইল, প্রশাসনিক কাজ, ব্যাংকিং সেবা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম আবারও পূর্ণ গতিতে চালু হতে কিছুটা সময় লাগে। তারপরই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসে।
ঈদের আনন্দময় সময় পেছনে ফেলে আজ থেকে আবারও শুরু হলো কর্মব্যস্ত জীবনের নতুন অধ্যায়। লাখো কর্মজীবী মানুষের পদচারণায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর আবারও ফিরে পাচ্ছে তার চেনা রূপ।

