দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ১৩৪ জন আক্রান্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মোট ৫৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯০ শিশু। বাকি ৪৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
সোমবার প্রকাশিত দৈনিক পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তিন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৩৪ জনে।
সাম্প্রতিক কয়েক দিনের পরিসংখ্যানও উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে একদিনে আটজন, অন্য একদিনে দুইজন এবং আরও কয়েকদিনে পাঁচ থেকে ১০ জন পর্যন্ত মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, সংক্রমণের গতি পুরোপুরি থামানো সম্ভব হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত আড়াই মাসে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৯৪ জনে পৌঁছেছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৭ হাজার ৯০২ জন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ অনেক রোগী গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসা নেন বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না গিয়ে বাসায় থাকেন। ফলে সব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে নথিভুক্ত হয় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা বা একই পরিবেশে অবস্থান করলেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, নির্ধারিত সময়ে শিশুদের টিকা না পাওয়া এবং কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আক্রান্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ, রোগী শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে শুধু চিকিৎসা নয়, ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রমও প্রয়োজন। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকাদান শতভাগ নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুহার ও সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। হামের বিস্তার রোধে সরকারিভাবে নজরদারি অব্যাহত থাকলেও সাম্প্রতিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এটি এখনো বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

