দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে আবারও কঠোর অবস্থানে গেছে সরকার। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব শপিংমল, বিপণিবিতান, মার্কেট, সুপার শপ এবং খুচরা দোকানপাট প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে যে বিশেষ সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ায় আগের সিদ্ধান্ত পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ এ বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের জন্য দেশের সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়, যা সামগ্রিক চাহিদার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
ঈদুল আজহার আগে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ এবং ক্রেতাদের সুবিধা বিবেচনায় দোকানপাট ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এতে উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে সেই বিশেষ ব্যবস্থা এখন শেষ হয়েছে এবং পূর্বের সময়সূচি পুনর্বহাল করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু শপিংমল বা দোকানপাটই নয়, বাণিজ্যিক বিলবোর্ড এবং বিভিন্ন ধরনের আলোকসজ্জাও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত মেলা, বাণিজ্য মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য জনসমাগমনির্ভর আয়োজনও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এসব খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হওয়ায় সাশ্রয় উদ্যোগের আওতায় এগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য অর্জনে এ ধরনের পদক্ষেপ স্বল্পমেয়াদে কার্যকর হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশের আশঙ্কা, সন্ধ্যার পর ক্রেতা সমাগম বেশি হওয়ায় সময়সীমা কমে গেলে বিক্রির ওপর কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—জাতীয় স্বার্থে বিদ্যুৎ সাশ্রয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ফলে এখন থেকে দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের একটি বড় অংশকে নতুন সময়সূচির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

