মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তাব নিয়ে কৌতুকমিশ্রিত এক মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কয়েকজন কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা সফরের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
জানা গেছে, মশক দমন কার্যক্রমে ব্যবহৃত আধুনিক ও উদ্ভাবনী পদ্ধতি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ মোট ছয়জন কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা সফরের একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাবটি পর্যালোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি জানিয়েছেন, বিদেশে গিয়ে মশক নিধনের কৌশল শেখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, বাংলাদেশের বাস্তবতা বুঝতে এবং কার্যকর সমাধান বের করতে বিদেশ সফরের চেয়ে স্থানীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, মশক দমন সম্পর্কে ধারণা নিতে বা নতুন পদ্ধতি খুঁজে বের করতে ফ্লোরিডা যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সন্ধ্যার পর দেশের যেকোনো জলাবদ্ধ এলাকা বা ডোবার পাশে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশকের আচরণ, বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রণের উপায় সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে সরকারি ব্যয় সাশ্রয় এবং প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে বিদেশ সফর মূল্যায়নের বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশও মনে করেন, বিদেশি অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থানীয় সমস্যার সমাধানে স্থানীয় বাস্তবতা বোঝা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
বাংলাদেশে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নগর কর্তৃপক্ষগুলোর মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশ সফরের প্রস্তাবের পরিবর্তে মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত পাবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

