রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা। নতুন চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবির পাশাপাশি এবার ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের পদত্যাগও দাবি করেছেন তারা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, ব্যাংকের বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন প্রয়োজন।
এর আগে সোমবার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তার নিয়োগের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। ওই দিনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং তিনি অতীতে আলোচিত একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তাদের আশঙ্কা, ব্যাংকের বর্তমান বোর্ডে পরিবর্তন না এলে ভবিষ্যতে আর্থিক অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনা সংকটের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। তারা বলছেন, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং ব্যাংকের সুশাসন রক্ষার লক্ষ্যেই এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্দোলনকারীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানকে অপসারণ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন অথবা বর্তমান গভর্নরের পদত্যাগ, অনিয়মের অভিযোগে চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের ব্যাংকের কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা এবং দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন।
তাদের ভাষ্য, দাবি পূরণে দৃশ্যমান উদ্যোগ না এলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের নতুন দাবিগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ব্যাংকিং খাত বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংককে ঘিরে চলমান এ পরিস্থিতি শুধু প্রতিষ্ঠানটির জন্য নয়, সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের আস্থার প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই উদ্ভূত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত সংলাপ ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

