বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য একক পরিচয় ও সেবা ব্যবস্থার আওতায় নতুন ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এই কার্ড কার্যকর হলে বর্তমানে ব্যবহৃত বিএমইটি কার্ডের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার রাজধানীতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য একাধিক কার্ডের পরিবর্তে এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক সুবিধা এক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। সরকারের লক্ষ্য হলো বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য সেবাপ্রাপ্তি আরও সহজ ও কার্যকর করা।
মন্ত্রী জানান, নতুন প্রবাসী কার্ড শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা রেমিট্যান্স প্রেরণকারী কর্মীদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য ব্যক্তিদের কার্ড দেওয়া হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কার্ডটি আধুনিক ডিজিটাল সুবিধাসম্পন্ন হবে এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক কার্ডের মতো কাজ করবে। এর মাধ্যমে পরিচয় যাচাই, বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কিছু সুবিধা যুক্ত করার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, কার্ডের সঙ্গে কী কী সুবিধা যুক্ত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সহজে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো, আর্থিক লেনদেন সহজ করা, ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধাভিত্তিক সেবা কাঠামো তৈরির কাজও চলছে।
সরকার প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য ভূমি-সংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জমিজমা সংক্রান্ত কাজ, সরকারি দপ্তরে সেবা গ্রহণ কিংবা হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অগ্রাধিকার সুবিধা চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান ক্রমেই বাড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সেবা গ্রহণে জটিলতা, কাগজপত্রের ঝামেলা এবং সমন্বিত পরিচয় ব্যবস্থার অভাব নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। নতুন প্রবাসী কার্ড চালু হলে এসব সমস্যার অনেকটাই দূর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সুবিধা এক ছাতার নিচে আনার পথও সুগম হবে।
সরকার এখন কার্ডটির কাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সুবিধাসমূহ চূড়ান্ত করার কাজ করছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ভবিষ্যতে প্রবাসীদের জন্য এটি একটি বহুমুখী সেবামাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

