রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আদালত আগামী বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেবেন, এরপর শুরু হতে পারে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানিকালে তদন্তে জব্দ করা বিভিন্ন আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা কাটা গ্রিলসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বস্তু ছিল। সাক্ষীদের মাধ্যমে এসব আলামত শনাক্ত ও নথিভুক্ত করার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় অন্তর্ভুক্ত ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন এদিন আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে ঘটনার বিভিন্ন দিক আদালতের সামনে উঠে আসে। সাক্ষীদের মধ্যে নিহত শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ঘটনাসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিরা ছিলেন।
শিশু সাক্ষীর মানসিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য বিশেষ পদ্ধতিতে গ্রহণ করা হয়। আদালত ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে তার বক্তব্য রেকর্ড করেন, যাতে শিশুটি স্বাভাবিক পরিবেশে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারে।
শুনানির সময় তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আলামত সংগ্রহের বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আদালতে তিনি তদন্তের বিভিন্ন ধাপ এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এর আগে সোমবার আদালত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। অভিযোগ গঠনের পরদিনই দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়, যা মাত্র একদিনের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন নিহত শিশুর বাবা সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ডিএনএ বিশ্লেষণ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারার অধীনে আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ করা হবে। এ পর্যায়ে তারা নিজেদের পক্ষে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এরপর মামলার উভয় পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন।
আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আলোচিত এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই আদালতের রায় ঘোষণার পথ সুগম হতে পারে। বিশেষ করে সাক্ষ্য, ফরেনসিক আলামত এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মামলাটি এখন চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

