অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে একটি ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তাঁর মতে, অর্থনীতিকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ বাজেট: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক করতে নিয়ন্ত্রণ শিথিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বিকাশের পথে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের বড় একটি অংশ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও বাজেট কাঠামোয় তাদের যথাযথ প্রতিফলন দেখা যায় না। এ কারণে সরকার বেসরকারি খাত ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবে। তিনি বলেন, জিডিপি শুধু শিল্প কারখানা থেকে আসে—এ ধারণা সঠিক নয়। সৃজনশীল খাতকেও এখন অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ সবসময়ই বাজেটে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় দারিদ্র্য আরও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্প সময়ের মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘ভঙ্গুর’ অবস্থায় পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো মূলধন ঘাটতিতে (আন্ডার ক্যাপিটালাইজড) রয়েছে এবং ব্যাংকের অর্থ লুট হয়ে গেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

