আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজায় অংশ নিতে ভোলায় মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়েছে। রাজনৈতিক মতভেদ ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন।
মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে জানাজার আগে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী জানাজাস্থল নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি জানান। এ সময় তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন।
পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করেন। পরে তারা স্থান ত্যাগ করলে জানাজা আয়োজন নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়।
এর আগে দুপুরের দিকে রাজধানী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ ভোলায় নেওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ জানাজাস্থলে আনা হলে সেখানে অপেক্ষমাণ মানুষের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। অনেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন।
জানাজা শেষে তার নিজ গ্রাম সদর উপজেলার কোরালিয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও দাফন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে তার উত্থান ঘটে এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি অন্যতম নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হিসেবে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮১ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। বয়সজনিত নানা জটিলতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও ভোলার জানাজায় মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে, কয়েক দশক ধরে জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব ও পরিচিতি এখনও অনেকের স্মৃতিতে অমলিন।

