ঢাকাসহ সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আরও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত বা হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯৪ জনে, যা ৬০০–এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টার মধ্যে নতুন ছয়টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চারজন শিশু ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫০৪ শিশু। অন্যদিকে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯০ শিশু। দুই শ্রেণির মৃত্যুর সংখ্যা মিলিয়ে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৫৯৪ জনে।
শুধু মৃত্যুই নয়, সংক্রমণের হারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আরও ১ হাজার ২৯২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত আড়াই মাসে মোট উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে পৌঁছেছে।
একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন ৪২ জনের শরীরে হাম রোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৯ হাজার ১৩৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলমান প্রাদুর্ভাবের সময়কালে মোট ৫৯ হাজার ১০৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৪ হাজার ৮৫২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ এখনও কমেনি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় টিকা গ্রহণের হার কম, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
এদিকে দেশে হামের বিস্তার এবং মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।

