দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। কয়েকদিন আগের তীব্র গরমের তুলনায় তাপমাত্রা কমেছে, তবে এর সঙ্গে নতুন করে দেখা দিয়েছে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের অন্তত ১৯টি জেলার ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল পর্যন্ত দেওয়া আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
যেসব জেলার জন্য এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ইতোমধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি বিভাগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এটি বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়বে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।
শুক্রবার (১২ জুন) থেকে সোমবার (১৫ জুন) পর্যন্ত আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বরং এই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মৌসুমি বায়ু যত বেশি সক্রিয় হবে, ততই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টির ঘটনা বাড়তে পারে। ফলে নিচু এলাকা ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ অঞ্চলে সাময়িক ভোগান্তির আশঙ্কাও রয়েছে।
সাম্প্রতিক আবহাওয়া পরিসংখ্যানেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীতে, যা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায়, যেখানে ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া বরিশালে ৪৮ মিলিমিটার, মাদারীপুরে ৪৬ মিলিমিটার, ভোলায় ৪৫ মিলিমিটার, ফেনীতে ৩২ মিলিমিটার এবং ঢাকায় ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ বলছে, আগামী পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ফলে কৃষি, নৌযান চলাচল এবং নগরজীবনে এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই ঝড়-বৃষ্টি প্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

