নির্দিষ্ট কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকলে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে কেন বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত জানিয়েছেন, আদেশের কপি পাওয়ার পরপরই তাকে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি আটক রাখার বৈধতা নিয়ে রুল জারি করা হয়েছে। এই রিট আবেদনটি করেন অধ্যাপক আবুল বারকাতের মেয়ে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অরনি বারকাত। গত বুধবার বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশিষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়। বৃহস্পতিবার বিষয়টি আইনজীবীরা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অধ্যাপক বারকাতকে হয়রানি, অপদস্থ ও নিপীড়নের উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী ও বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে। আবেদনপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান ও সৈয়দ মামুন মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাকে সহায়তা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মোমতাজ ও মো. জাসিদুল ইসলাম (জনি)।
শুনানি শেষে আইনজীবী মামুন মাহবুব জানান, আদালত তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন এবং রুল জারি করেছেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন আদালতে হাজির করা হবে না যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় তাকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি।
স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, রিট আবেদনকারীর খরচে বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে দ্রুত আদেশের কপি প্রতিপক্ষের কাছে পৌঁছাতে হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালীন এননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন আবুল বারকাতসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই বছরের ১০ জুলাই ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে সম্প্রতি ওই মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। গত ৭ জুন আপিল বিভাগ তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে সেই জামিন বহাল রাখে।
তবে জামিন পাওয়ার পরও তিনি মুক্তি পাননি। আইনজীবীরা জানান, জামিনের দিনই তাকে ঢাকা নিউ মার্কেট থানার পুরোনো বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়।

