রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, তদন্ত কার্যক্রম এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া জবাব পর্যালোচনা করার পর লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মে সকালে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
ঘটনার পর হাসপাতালের মালিকের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে জানতে চাওয়া হয়, কেন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে না। জবাব দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যাখ্যা জমা দিলেও তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেছিলেন, স্বাস্থ্যসেবার মতো স্পর্শকাতর খাতে কোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার সুযোগ নেই এবং জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, একটি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এটি শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে। তারা মনে করছেন, রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখতে জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
এদিকে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
ঘটনার পর স্বাস্থ্যসেবা খাতে নজরদারি জোরদার এবং হাসপাতালগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা রোধে নিয়মিত তদারকি, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

