বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষার প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষায় ৯ হাজার ২০১ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। শুক্রবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ফলাফল রাতেই প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, কারণ এখন তারা পরবর্তী ধাপের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বার কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে শুক্রবার ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যরাতে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
এবারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছিলেন ৩৭ হাজার ৮০ জন আইন শিক্ষার্থী। সেই হিসাবে মোট আবেদনকারীদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রথম ধাপ পেরিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। ফলে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৯ হাজার ২০১ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য বার কাউন্সিলের নির্ধারিত তিন ধাপের পরীক্ষা পাস করতে হয়। প্রথম ধাপে রয়েছে বহুনির্বাচনী বা এমসিকিউ পরীক্ষা। এই ধাপ উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। লিখিত পরীক্ষায় সফল হলে তাদের মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। তিনটি ধাপেই উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই শেষ পর্যন্ত আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধন লাভের যোগ্যতা অর্জন করেন।
আইন পেশায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলের এই পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি বছর হাজার হাজার আইন স্নাতক ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী এ পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে সীমিত সংখ্যক প্রার্থীই প্রথম ধাপ অতিক্রম করতে সক্ষম হন, যা পরীক্ষাটির প্রতিযোগিতামূলক চরিত্রকে তুলে ধরে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শুধু একটি ধাপ পেরোনো। প্রকৃত চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায়। কারণ পরবর্তী ধাপগুলোতে আইন বিষয়ে গভীর জ্ঞান, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং বাস্তব প্রয়োগের সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
আইন অঙ্গনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে আইন পেশায় প্রবেশের মান নিশ্চিত করতে বার কাউন্সিলের বহুধাপের এই মূল্যায়ন পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীদের বাছাই করে আইন পেশায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এখন লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বার কাউন্সিল পরবর্তী ধাপের পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করলে তাদের সেই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। আইনজীবী হওয়ার দীর্ঘ যাত্রাপথে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য আরও দুটি কঠিন ধাপ পেরোতে হবে তাদের।

