দেশের শিক্ষক সমাজের জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে শিক্ষকদের যে ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা দেওয়া হয়, সেটিকে ধাপে ধাপে ১০০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। বাজেট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন চারতলা ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। উৎসব ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে শিক্ষকরা পর্যায়ক্রমে শতভাগ উৎসব ভাতার সুবিধা পাবেন।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বিভিন্ন আইনি জটিলতায় আটকে আছে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বর্তমানে বিপুলসংখ্যক মামলার চাপে রয়েছে। প্রায় ৮৩ হাজার ৫০০ মামলা বিভিন্ন পর্যায়ে বিচারাধীন থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা কেবল বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় সহশিক্ষা কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা এবং সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে পারে।
এ সময় সোনারগাঁও এলাকায় একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটলে শিক্ষার্থীরা কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে বেকারত্ব কমাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সে লক্ষ্যেই আগামী দিনে জাতীয় আয়ের তুলনায় শিক্ষা খাতের বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শিক্ষা বাজেটকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করা।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎসব ভাতা বৃদ্ধি, শিক্ষক নিয়োগের জট নিরসন এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর মতো উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের কিছু দাবির বাস্তবায়ন হলে তাদের পেশাগত মনোবল ও কর্মউদ্দীপনা আরও বৃদ্ধি পাবে।

