নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনগণের কল্যাণমুখী বাজেট হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং সাধারণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে উত্থাপিত বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাসটার্মিনালে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং কক্সবাজার অঞ্চলের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদে যে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে, তা দেশের সাধারণ মানুষের প্রয়োজন এবং স্বার্থকে সামনে রেখেই প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যারা দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন নিয়ে আন্তরিকভাবে চিন্তা করেন, তারা এই বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, এটি এমন একটি বাজেট, যার মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনকে সহজ করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করা।
বাজেট নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো বা প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার পরও কিছু মহল এর বিরোধিতা করছে। তবে সরকারের বিশ্বাস, এই বাজেট বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কক্সবাজারের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২৫ বছরে জেলার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হওয়ার পর এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি মনে করেন, বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কারণে কক্সবাজার জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি উল্লেখ করে তিনি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় এই সড়কের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন এবং শিগগিরই এ বিষয়ে কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি আনোয়ারা, পটিয়া ও বাঁশখালী অঞ্চলের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
লবণ চাষিদের সমস্যার বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের বহু মানুষ লবণ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তারা অনেক সময় উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান না। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকার একটি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে, যাতে লবণ চাষিরা তাদের পণ্যের সঠিক দাম পান এবং আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন।
দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান কক্সবাজারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি পিএমখালী ইউনিয়নে একটি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এছাড়া পেকুয়া উপজেলায় জুলাই আন্দোলনের শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত এবং নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং কৃষক ও উৎপাদকদের স্বার্থরক্ষার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মতে, নতুন বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পথও আরও সুগম হবে।

