দেশজুড়ে হামের প্রকোপ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন এসব মৃত্যুর ঘটনায় চলতি প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে হামে ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫২ জনে।
রোববার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের একজন করে শিশু রয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে ৫৬০ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হামে মারা গেছে আরও ৯২ শিশু। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬৫২-এ পৌঁছেছে।
এদিকে আক্রান্তের সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও ১ হাজার ৫২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ৯৫১ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক দিনে পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ৭৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ নিয়ে চলমান প্রাদুর্ভাবের সময়ে দেশে মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ৩২৩।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭০ হাজার ৫৭৯ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬৬ হাজার ৮৪১ জন। তবে এখনও কয়েক হাজার রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে টিকাদান কভারেজের ঘাটতি, অপুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সম্প্রতি ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম শুধু একটি সংক্রামক রোগ নয়; সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, অপুষ্টি এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জনগণকে শিশুদের টিকাদান সম্পন্ন করা, জ্বর ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার না করা হলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

