ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, কলেজটির একাডেমিক কার্যক্রম চললেও শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ পরিচালনার জন্য অন্য কোনো অনুমোদিত হাসপাতালে সংযুক্ত হতে হবে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দ্রুত কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতে পারে। কারণ মেডিকেল শিক্ষার পাঠ্যক্রম অনুযায়ী তৃতীয় বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে সরাসরি রোগীসেবার মাধ্যমে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। একইভাবে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর এক বছরের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপও হাসপাতালভিত্তিক কার্যক্রমের অংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হলেও মেডিকেল কলেজটির শিক্ষাকার্যক্রম আপাতত বন্ধ হচ্ছে না। তবে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। এজন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে অন্য কোনো জেনারেল বা অনুমোদিত হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করতে হবে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতের নীতিমালা অনুযায়ী, একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সংযুক্ত হাসপাতাল থাকা অন্যতম প্রধান শর্ত। হাসপাতালই শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ এবং ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার মূল ক্ষেত্র। ফলে হাসপাতালবিহীন অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব নয়।
কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীদের সেখানে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় পরিবহন ও সমন্বয়ের দায়িত্বও কলেজকেই বহন করতে হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি এড়ানো। কারণ চিকিৎসাশাস্ত্রে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সমান গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় প্রশিক্ষণ ব্যাহত হলে শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের পর অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত বিকল্প হাসপাতাল নির্ধারণ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে চলমান সংকটের প্রভাব তাদের শিক্ষা, পরীক্ষা বা ভবিষ্যৎ চিকিৎসক হিসেবে প্রস্তুতির ওপর না পড়ে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; বরং চিকিৎসা শিক্ষা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার মান, জবাবদিহি এবং রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

