পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরার কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জুন পর্যন্ত মোট ৫৬ হাজার ৮৬৮ জন হাজি নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫২ হাজার ৫৫৫ জন।
হজ মৌসুম শেষ হওয়ার পর প্রতিবছরের মতো এবারও হাজার হাজার বাংলাদেশি হাজির দেশে ফেরার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
ফিরতি যাত্রী পরিবহনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৯৪৫ জন হাজিকে দেশে পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়া সৌদি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ১৯ হাজার ৮২৭ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৮ হাজার ৩৮৩ জন হাজি। অন্যান্য বিমান সংস্থার মাধ্যমে আরও ৪ হাজার ৭১৬ জন দেশে ফিরেছেন।
হজযাত্রীদের পরিবহনের জন্য এ পর্যন্ত মোট ১৩৪টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৬৩টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইনস ৫০টি এবং ফ্লাইনাস পরিচালনা করেছে ২১টি ফ্লাইট। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব হাজিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
তবে এবারের হজ মৌসুমে একটি বেদনাদায়ক তথ্যও সামনে এসেছে। হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৫২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী। মৃতদের বেশিরভাগই মক্কায় মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৪ জন এবং জেদ্দায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সৌদি আরবের নিয়ম অনুসারে তাদের সেখানেই দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
হজ মৌসুমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ বছর সৌদি আরবে স্থাপিত বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে ৬৪ হাজার ১৪৯টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৭ হাজার ৮৯১০টি সেবা দেওয়া হয়েছে, যা হাজিদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। গত ৩০ মে থেকে শুরু হওয়া ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলকভাবে সীমিত সংখ্যক ফ্লাইটে বিপুলসংখ্যক হাজিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা একটি বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। তবে এখন পর্যন্ত ফিরতি কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। একই সঙ্গে হজ মৌসুমে স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্যসেবার বিস্তৃত ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতের জন্যও একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

