রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, হাসপাতাল বন্ধ হলেও আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনে অন্য হাসপাতালের মাধ্যমে ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, মানবিক সেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তার মতে, স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলার কোনো সুযোগ নেই এবং রোগীর নিরাপত্তাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এর আগে গত ১১ জুন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে এবং সেখানে ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়।
তবে শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আলাদা সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। তাদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের অন্যান্য হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য বিকল্প হাসপাতাল সংযুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে স্বাস্থ্যসেবা খাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি জানান।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত যতটা প্রশাসনিক, তার প্রভাব শিক্ষা কার্যক্রমে না পড়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে। তবে বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে বিকল্প প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ওপর।

