দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, জবাবদিহিমূলক ও আইনসম্মত কাঠামোর আওতায় আনতে ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনের খসড়া প্রস্তুত করবে।
সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যখাতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীদের অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন এ আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যেও এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গঠিত কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল)। এছাড়া স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের একাধিক শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগের প্রতিনিধিকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ এবং রোগীসেবার মান উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।
কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রস্তুত করা। প্রয়োজনে তারা অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এবং বিভিন্ন অংশীজন, পেশাজীবী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের মতামত গ্রহণের সুযোগও থাকবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কমিটিকে আগামী ২০ কর্মদিবসের মধ্যে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কাছে জমা দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যালোচনার মাধ্যমে আইন প্রণয়নের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের মতে, দেশে চিকিৎসাসেবা প্রদান, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা এবং রোগীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। নতুন আইন সেই শূন্যতা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাদের মতে, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতা, চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ, রোগীদের সেবা প্রাপ্তির অধিকার, চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো আইনের আওতায় স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা গেলে পুরো খাত আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল হবে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং রোগী—সব পক্ষের অধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং আস্থা বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্যখাতের অংশীজনরা আশা করছেন, আইনের খসড়া প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এটি একটি কার্যকর ও যুগোপযোগী আইন হিসেবে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

