রাজধানীর উত্তরায় ফুটপাত দখল ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে।
সোমবার রাতে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের জসিমউদ্দিন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, হঠাৎ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ওই এলাকার একটি সড়কের ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট ও ভ্যান উচ্ছেদ করে। উচ্ছেদের পরও কিছু ব্যক্তি পুনরায় সেখানে ব্যবসা পরিচালনার উদ্যোগ নেয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সর্বশেষ সেই বিরোধ প্রকাশ্যে সংঘর্ষের রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা থেকে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
ঘটনার সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে এতে কেউ আহত হয়নি। ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থানরত ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ফুটপাতকেন্দ্রিক বিরোধের পেছনে কারা জড়িত এবং ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল, অবৈধ দোকান স্থাপন এবং এসবকে ঘিরে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে পুনরায় দখলের চেষ্টা দেখা যায়, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে।
তাদের মতে, ফুটপাতকে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ফুটপাতকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি বা আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগেরও কার্যকর তদন্ত হওয়া দরকার।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই ঘটনা রাজধানীতে ফুটপাত ব্যবস্থাপনা ও নগর শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধ আরও বড় সংঘাতের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

