নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে বিপুল পরিমাণ মসুর ডাল ও ভোজ্য তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে চারটি পৃথক ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এসব ক্রয়ের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮১২ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
আজ বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো অনুমোদন পায়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। চট্টগ্রামের পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলস থেকে প্রতি কেজি ৮১ টাকা ৪৭ পয়সা দরে এ ডাল সংগ্রহ করা হবে। এ জন্য সরকারের ব্যয় হবে ৮১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
জানা গেছে, এই ডাল কেনার জন্য স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সব প্রস্তাব কারিগরি মূল্যায়নে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হওয়ার পর সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আরও ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল পিটিওয়াই লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি মেট্রিক টন ৫৫৯ মার্কিন ডলার দরে এ ডাল কেনা হবে।
ডালের উৎস হিসেবে তানজানিয়া, মালাউই ও অস্ট্রেলিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই চালানে মোট ব্যয় হবে ৮৫ কোটি ৭৭ লাখ ১৫ হাজার ৬২৫ টাকা। পরিবহন ব্যয়সহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত প্রতি কেজি ডালের মূল্য দাঁড়াবে ৭৪ টাকা ৮৬ পয়সা।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৬৮ মেট্রিক টন ডাল কেনা হয়েছে।
অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহের উদ্দেশ্যে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন তেল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ঢাকার শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে এ তেল সংগ্রহ করা হবে।
এতে ব্যয় হবে ৩৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। পরিবহন ব্যয়সহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত প্রতি লিটার পাম অলিন তেলের মূল্য হবে ১৮৩ টাকা ৯৫ পয়সা।
একই বৈঠকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল পিটিওয়াই লিমিটেডের কাছ থেকে এই তেল সংগ্রহ করা হবে, যার উৎস তানজানিয়া। এ ক্রয়ে ব্যয় হবে ২৭৭ কোটি ১৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। পরিবহন ব্যয়সহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১৬৪ টাকা ৭৭ পয়সা।
টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভোজ্য তেল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ কোটি লিটার। এর মধ্যে পাম অলিন ও সয়াবিন তেল মিলিয়ে ইতোমধ্যে ১৪ কোটির বেশি লিটার ভোজ্য তেল কেনা সম্পন্ন হয়েছে।

