রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এ লক্ষ্যে সেতু বিভাগের অধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পটির জন্য সরাসরি কোনো বরাদ্দ না থাকলেও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বাজেট থেকে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পটিকে এডিপির অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকা বা ‘সবুজ পাতা’য় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। সমীক্ষা শেষে প্রকল্পের আর্থিক, কারিগরি ও পরিবেশগত সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে প্রকল্পটিকে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের ওপর নির্ভরতা কমবে, যানজট হ্রাস পাবে এবং রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। সমীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই প্রকল্পের ব্যয়, নকশা এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

