Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, জুন 25, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর থেকে কী পেল বাংলাদেশ
    বাংলাদেশ

    তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর থেকে কী পেল বাংলাদেশ

    হাসিব উজ জামানUpdated:জুন 25, 2026জুন 25, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন চীন সফরে থাকলেও দেশের চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—আলোচনার বড় অংশ জুড়ে আছে মালয়েশিয়া। কারণ, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও হঠাৎ করেই মানুষের নজর কাড়ে। ভিডিওটি শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফরের স্মৃতিচিত্র নয়; এর মধ্যে ছিল আবেগ, রাজনৈতিক বার্তা, কূটনৈতিক ইঙ্গিত এবং জনসংযোগের এক পরিমিত কৌশল।

    ভিডিওটির পেছনে বাজছিল জনপ্রিয় বাংলা গান ‘আমার বন্ধু মহা জাদু জানে’। এই গানের আবহে দেখানো হয় তারেক রহমানকে মালয়েশিয়ায় দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনা, পুত্রাজায়ার পারদানা পুত্র ভবনে লালগালিচা সংবর্ধনা, দুই প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক মুহূর্ত এবং সংবাদ সম্মেলনের দৃশ্য। পুরো ভিডিওতে কথার ব্যবহার ছিল খুব কম। শুধু একটি জায়গায় আনোয়ার ইব্রাহিমের বক্তব্য শোনা যায়, যেখানে তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি জানান। বাংলাদেশের জন্য এই বিষয়টি কেবল মানবিক নয়, কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ২৩ জুন সকালে ভিডিওটি প্রকাশের পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একই দিনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসও তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করে। এরপর দেশের মূলধারার গণমাধ্যমেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। অনেক বাংলাদেশি ব্যবহারকারী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের জনসংযোগ কৌশলের প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফরকে সংগীত, আবেগ ও দৃশ্যভাষার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।

    কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ভাইরাল ভিডিওর বাইরে ২১ ও ২২ জুনের মাত্র ১৮ ঘণ্টার সফরে বাংলাদেশ আসলে কী পেল?

    এই সফরের গুরুত্ব বোঝার জন্য প্রথমেই মনে রাখতে হবে, গত ফেব্রুয়ারিতে বিপুল সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের পর এটি ছিল তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। তিনি ভারত, চীন, জাপান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ একাধিক রাষ্ট্রের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। তারপরও প্রথম গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া ছিল নিছক সৌজন্য সফর নয়। এর পেছনে অর্থনৈতিক কূটনীতি, শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার হিসাব কাজ করেছে।

    ২২ জুন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রথমে একান্ত বৈঠক করেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম জিয়া পরিবারের সঙ্গে তাঁর পুরোনো সম্পর্কের কথা আবেগের সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তারেক রহমানের রাজনৈতিক ত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন। এই বক্তব্য কূটনৈতিক ভাষার বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের এক আবহ তৈরি করে, যা দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে আস্থার বার্তা দেয়।

    তবে সফরের আসল গুরুত্ব লুকিয়ে আছে যৌথ বিবৃতি ও সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া ৯টি ইস্যু ঘিরে ৩৩ দফার যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, পর্যটন, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।

    বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার ছিল মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে শ্রমবাজার পুনরায় চালু, অভিবাসন ব্যয় কমানো, দালালচক্রের প্রভাব দূর করা এবং অনিবন্ধিত বা কারাবন্দী বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ কাঠামোর আওতায় আনার অনুরোধ জানান।

    আনোয়ার ইব্রাহিম স্পষ্টভাবে বলেন, শ্রমিকদের শোষণ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। নতুন বিদেশি শ্রমিকের কোটা খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর নির্ভর করবে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যমান শ্রম সহযোগিতা স্মারক পুনর্বিবেচনা এবং নতুন স্মারক সইয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে যৌথ কর্মদল বৈঠক ডাকার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়।

    এই জায়গাটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অন্যতম বড় গন্তব্য। কিন্তু অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, নিয়োগে অনিয়ম, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগ বারবার সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি করেছে। এবার যদি স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা কার্যকর করা যায়, তাহলে শ্রমিকের সুরক্ষা যেমন বাড়বে, তেমনি বাংলাদেশও স্থিতিশীল রেমিট্যান্স প্রবাহের সুবিধা পাবে।

    সফরের আরেকটি বড় দিক ছিল প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি। যৌথ বিবৃতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলা হয়। তারেক রহমান বাংলাদেশের দ্রুত সম্প্রসারমান তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতকে মালয়েশিয়ার উন্নত সেমিকন্ডাক্টর সংযোজন ও পরীক্ষণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। এ জন্য ঢাকা একটি মেধা সহযোগিতা কাঠামোর প্রস্তাব রাখে।

    এই প্রস্তাব শুধু প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শ্রমনির্ভরতা থেকে দক্ষতানির্ভরতার দিকে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিতও দেয়। মালয়েশিয়া ইতিমধ্যে বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশ যদি দক্ষ মানবসম্পদ, প্রকৌশলী এবং প্রযুক্তিকর্মীদের সেই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারে, তাহলে নতুন কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয় দুটিই বাড়তে পারে।

    বাণিজ্য সম্পর্কেও সফরে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। এই সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ২০২৭ সালের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের বেসরকারি খাতের সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়া–বাংলাদেশ যৌথ ব্যবসায়িক পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এখানে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ যেমন আছে, তেমনি সতর্কতার জায়গাও আছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হলে পণ্য রপ্তানির নতুন দরজা খুলতে পারে, কিন্তু দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে আমদানি চাপও বাড়তে পারে। তাই এই প্রক্রিয়ায় শুধু বাজারে প্রবেশাধিকার নয়, উৎপাদন সক্ষমতা, মান নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি বৈচিত্র্য এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনাও জরুরি।

    হালাল শিল্প নিয়েও সফরে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ দেখা গেছে। বৈশ্বিক ইসলামি অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার ইসলামি উন্নয়ন বিভাগের সহযোগিতা চেয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বিনিময়পত্র সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে হালাল সনদ, গবেষণা এবং পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী এবং প্রক্রিয়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে নতুন রপ্তানি বাজার ধরতে পারে।

    জ্বালানি খাতেও আলোচনা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। সফরের সময় তারেক রহমান মালয়েশিয়ার বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর মধ্যে ছিল পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পেরোদুয়া এবং এমএমসি পোর্টস। তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ও অবকাঠামো উন্নয়নে পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে স্মারক সই হয়। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে তেল–গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আহ্বান করে বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ। আমদানি নির্ভরতা, ডলারের চাপ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের কারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া জ্বালানি খাত স্থিতিশীল রাখা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ার মতো অভিজ্ঞ জ্বালানি অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য বাস্তব অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।

    ভূরাজনৈতিক দিক থেকে সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো আসিয়ানের খাতভিত্তিক সংলাপ অংশীদার হতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার প্রকাশ্য সমর্থন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও ঢাকা মালয়েশিয়ার সমর্থন পেয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থান করলেও বাংলাদেশ এখনো আসিয়ান কাঠামোর সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় যুক্ত হতে পারেনি। মালয়েশিয়ার সমর্থন এই পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পুঁজি হিসেবে কাজ করতে পারে।

    রোহিঙ্গা ইস্যুতেও মালয়েশিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটি জানিয়েছে, আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলোতে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরি করতে তারা কাজ করবে, যাতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়। বাংলাদেশ বহু বছর ধরে এই সংকটের ভার বহন করছে। মানবিক সহায়তা কমে আসা, নিরাপত্তা ঝুঁকি, সীমান্ত উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে রোহিঙ্গা প্রশ্ন এখন আরও জটিল। তাই মালয়েশিয়ার মতো মুসলিমপ্রধান ও আসিয়ানভুক্ত দেশের সক্রিয় ভূমিকা বাংলাদেশের জন্য জরুরি।

    দুই দেশ জাতিসংঘ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থায় ফিলিস্তিন সংকট সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং মানব পাচার প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও করেছে। এর মাধ্যমে সম্পর্কটি কেবল দ্বিপক্ষীয় স্বার্থে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতেও একটি মিলিত অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও সফরে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যৌথ গবেষণা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পর্যটন খাতেও সহযোগিতার কথা ওঠে, বিশেষ করে ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ এবং চিকিৎসা পর্যটনকে ঘিরে। বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে চিকিৎসা ও পর্যটনের জন্য মালয়েশিয়াকে বিবেচনা করে। তাই এই খাতে সহজ যোগাযোগ, সেবা মান এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    সংস্কৃতি, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাও সফরের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে আনুষ্ঠানিক স্মারক সই হয়। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও বিনিয়োগ বিষয়ে দুটি বিনিময়পত্র সম্পন্ন হয়। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং একটি যৌথ কমিটি গঠন করে প্রতিরক্ষা রূপরেখা তৈরির অঙ্গীকার করে দুই দেশ। সামরিক বিজ্ঞান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় নিয়েও দুই নেতা একমত হন।

    এই অংশটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কারণ বাংলাদেশ সাধারণত প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ভারসাম্য রক্ষার নীতি অনুসরণ করে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে এই সহযোগিতা সামরিক জোট গঠনের ইঙ্গিত নয়; বরং প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময়, শান্তিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক করার প্রয়াস।

    সফরের শেষ দিকে ২২ জুন ব্যস্ত দিনের কর্মসূচি শেষে তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এরপর তিনি চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন। এই ক্রমটিও কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মালয়েশিয়াকে প্রথম সফর হিসেবে বেছে নেওয়া, এরপর চীন সফর—সব মিলিয়ে ঢাকা হয়তো আঞ্চলিক সম্পর্কের নতুন ভারসাম্য রচনার চেষ্টা করছে।

    সব মিলিয়ে বলা যায়, মালয়েশিয়া সফরকে শুধু একটি ভাইরাল ভিডিও দিয়ে বিচার করলে পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। ভিডিওটি মানুষের মনোযোগ টেনেছে, আবেগ তৈরি করেছে এবং দুই নেতার ব্যক্তিগত উষ্ণতা সামনে এনেছে। কিন্তু তার আড়ালে ছিল শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারের চাপ, প্রযুক্তি সহযোগিতার সম্ভাবনা, জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজন, হালাল শিল্পের বাজার, মুক্ত বাণিজ্যের পরিকল্পনা, রোহিঙ্গা কূটনীতি এবং আসিয়ানমুখী বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি হিসাব।

    এখন আসল প্রশ্ন হলো, ঘোষণাগুলো কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পাবে। শ্রমবাজার খুলবে কি না, নিয়োগে স্বচ্ছতা আসবে কি না, বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তব প্রকল্পে পরিণত হবে কি না, প্রযুক্তি সহযোগিতা দক্ষ জনশক্তির নতুন পথ খুলবে কি না—এসবের উত্তর সময়ই দেবে।

    ‘আমার বন্ধু মহা জাদু জানে’ গানটি ভিডিওতে আবেগের আবরণ তৈরি করেছে ঠিকই, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের জাদু শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। যদি ৩৩ দফার প্রতিশ্রুতিগুলো কার্যকর হয়, তাহলে ২১ ও ২২ জুনের এই ১৮ ঘণ্টার সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে মনে রাখা হতে পারে। আর যদি তা কাগজেই আটকে যায়, তবে ভাইরাল ভিডিওটি থাকবে শুধু একটি সুন্দর কূটনৈতিক স্মৃতি হয়ে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    ট্রেনে ছোড়া পাথরে চোখ হারালেন আয়কর আইনজীবী

    জুন 25, 2026
    বাংলাদেশ

    কর আপিল ট্রাইব্যুনালে ঝুলে আছে ১,৬২৪টি মামলা, বাড়ছে চাপ

    জুন 25, 2026
    বাংলাদেশ

    আদালতের আদেশে হতাশ হয়ে এজলাসেই বিষপান নারীর

    জুন 25, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.