সামাজিক অবক্ষয়, বিবাদপ্রিয়তা এবং মানুষের ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ মন্তব্য প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন। লেখাটিতে বর্তমান সমাজের নানা বাস্তবতা নিয়ে তাঁর গভীর উদ্বেগ, আত্মসমালোচনা ও সতর্কবার্তা উঠে এসেছে। পাঠকদের জন্য তাঁর সেই লেখাটি নিচে হুবহু প্রকাশ করা হলো:
অনেক মাছ ভাতের বাঙালির এখন প্রেম, সুখ শান্তি, আশা ভরসা ইত্যদিতে বিশেষ রুচি নেই। নিত্য নতুন কাইজ্জ্যা ফ্যাসাদে ইহাদের মন ভরে, পেট ভরে, জীবন স্বার্থক হয়।
জীবনে ভালোলাগা ভালোবাসার মতো বিষয়ের অভাব নেই। স্বভাব নষ্ট হয়ে গেলে ভালো কোনকিছুতে মন আটকায় না। মন আটকে যায়, আটকাতে থাকে মন্দে। মন্দ যখন দেখে আমাতেই মানুষের আগ্রহ বেশি, সারা দুনিয়ার মন্দ এক হয়ে মন্দপ্রেমিকদের ঘিরে ধরে বলতে থাকে, আমাকে নাও হে আমাকে নাও।
মন্দ অনেকরকমের হয়। নিজের মন্দ, পরের মন্দ, সমাজের, দেশের, বিদেশের বা আন্তর্জাতিক মন্দ। যার মন্দ পছ্ন্দ তার কাছে সকল জাতীয় মন্দই সুস্বাদু, রুচিকর।
নোংরা ফেলা, ময়লা লুটিয়ে পড়ে থাকা জায়গায় কাকদের কা কা শোনা যায়। মানুষের বিশেষত্ব হচ্ছে ইচ্ছা হলেই যে কোনো স্থানে যে কোনকিছু নিয়ে হাউকাউ করতে নেমে পড়তে পারে।
কোথাও শান্তি স্বস্তি আছে, তা যেনো এক পদের মানুষের মনে সয়ই না। আগে শুনতাম লেখাপড়া কম জানা, কান্ডজ্ঞানহীন মানুষেরা ঝগড়া করতে, বিবাদ বাঁধাতে বিশেষ পছন্দ করে। এখন তা সীমা অতিক্রম করেছে।
এখন দাঁত কিড়মিড় করা, নখ নিশপিস করা রোগে ভুগছে বহু মানুষ। কামড়ে খামচে আরাম পাওয়ার জন্য তাদের রোজ মানুষ দরকার হয়। যে মানুষের নাম আছে, হামলে পড়া, কামড়ানো খামচানো, চটকানোর জন্য তেমন মানুষই উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়।
কাক কাকের মাংস খায় না। শিয়ালও শিয়ালের মাংস খায় না। মানুষ কাক নয়, শিয়ালও নয়। মানুষ হচ্ছে মানুষ। তাদের পক্ষে সবই সম্ভব। মানুষ নির্দ্বিধায় রক্ত মাংস, অনুভব, বিশ্বাস সমেত আস্ত মানুষকে কামড়ে খাঁমচে, চিবিয়ে খেতে অধিকতর পছন্দ করে। এই ভয়ঙ্কর পছন্দের মূল্য নিশ্চয়ই দিতে হবে।
কারা দেবে?
মূল্য ভূতের আছরে নাকাল মানুষ, মর্যাদাখেকোরা দেবে না। দিতে হবে এই দেশ ও শান্তি স্বস্তিতে জীবন কাটাতে চাওয়া মানুষদেরকেই।
লেখক: আফজাল হোসেন , বিশিষ্ট অভিনেতা ও চিকিৎসক

