Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, জুন 30, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » সংসদে তোষামোদের দিন কি শেষ হচ্ছে?
    বাংলাদেশ

    সংসদে তোষামোদের দিন কি শেষ হচ্ছে?

    হাসিব উজ জামানজুন 30, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ দীর্ঘদিন ধরে এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাক্ষী, যেখানে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের বড় অংশ সাধারণত সরকারের প্রশংসাতেই বেশি সরব থাকতেন। সরকারপ্রধান কিংবা মন্ত্রীদের সিদ্ধান্ত, বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা খুব বেশি দেখা যেত না। অনেক সময় সংসদীয় আলোচনা পরিণত হতো প্রশংসা, বন্দনা ও দলীয় আনুগত্য প্রদর্শনের মঞ্চে। ফলে জনগণের প্রত্যাশিত জবাবদিহি ও নীতিগত বিতর্ক অনেকটাই আড়ালে পড়ে যেত।

    তবে সাম্প্রতিক সংসদ অধিবেশনে কিছুটা ভিন্ন ছবি দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য নিজ দলের মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন। শুধু সাধারণ মন্তব্য নয়, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাত, খেলাপি ঋণ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং সংসদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি—এসব বিষয় নিয়ে তাঁরা প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। এই পরিবর্তন অনেকের কাছে সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

    এই বার্তাটি শুধু কয়েকজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর ভেতরে আছে রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত, মন্ত্রীদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা এবং জনগণের সামনে দায়বদ্ধতার নতুন ভাষা তৈরির সম্ভাবনা।

    প্রশংসার রাজনীতি থেকে প্রশ্নের রাজনীতিতে

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলীয় আনুগত্য খুবই শক্তিশালী একটি বিষয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে প্রকাশ্য সমালোচনা অনেক সময় অস্বস্তিকর বলে বিবেচিত হয়। দলের সিদ্ধান্ত, মন্ত্রীদের কার্যক্রম বা সরকারের নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলা অনেকের কাছে দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে যাওয়ার মতো মনে হতে পারে।

    কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা শুধু হাত তুলে সমর্থন দেওয়া নয়। তাঁদের কাজ জনগণের কথা বলা, নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা, মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজন হলে নিজ দলের সরকারকেও সতর্ক করা। কারণ সংসদ সদস্যরা শেষ পর্যন্ত জনগণের প্রতিনিধি। তাঁরা শুধু দলের প্রতিনিধি নন।

    এই দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান সংসদে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা দেখাতে চাইছেন, সরকারের অংশ হয়েও প্রশ্ন করা যায়। মন্ত্রী একই দলের হলেও তাঁর কাজ নিয়ে জবাবদিহি দাবি করা যায়। আর এই চর্চা যদি নিয়মিত হয়, তাহলে সংসদ শুধু আনুষ্ঠানিক বিতর্কের জায়গা না হয়ে বাস্তব অর্থে নজরদারি ও জবাবদিহির কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘিরে গয়েশ্বর রায়ের প্রশ্ন

    বাজেট আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ করে মাদক ইস্যুতে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ইয়াবা পাচার ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মাদকের প্রবাহের বিষয়টি।

    তিনি অতীতের একটি আলোচিত প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আগের সময়ে মাদক কারবারের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের নাম জড়ানোর অভিযোগ ছিল। এখন সেই আলোচিত ব্যক্তি কারাগারে থাকলেও মাদকের প্রবাহ বন্ধ হয়নি—তাহলে এখন এর দায়িত্ব কার হাতে? এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    গয়েশ্বর রায়ের বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য হলো, তিনি শুধু বিরোধী দলের মতো সমালোচনা করেননি; বরং ক্ষমতাসীন দলের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে নিজ দলের মন্ত্রীর কাছেই ব্যাখ্যা চেয়েছেন। এটি সরকারের জন্য অস্বস্তিকর হলেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক হতে পারে। কারণ মাদক নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি সামাজিক নিরাপত্তা, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

    যদি সংসদে এমন প্রশ্ন নিয়মিত ওঠে, তাহলে মন্ত্রণালয়গুলোকে শুধু কাগুজে সাফল্য দেখালেই চলবে না। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা নিয়েও জবাব দিতে হবে।

    খেলাপি ঋণ নিয়ে রেজা কিবরিয়ার উদ্বেগ

    হবিগঞ্জের সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়া বাজেট আলোচনায় দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে খেলাপি ঋণের হার সামান্য বাড়লেই উদ্বেগ তৈরি হয়, অথচ বাংলাদেশে পরিস্থিতি অনেক বেশি নাজুক।

    রেজা কিবরিয়ার বক্তব্যের বিশেষ গুরুত্ব আছে, কারণ তিনি অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে বিষয়টি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা শুধু একটি আর্থিক সমস্যা নয়; এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র অনেক সময় সংজ্ঞা পরিবর্তনের মাধ্যমে আড়াল করা হয়। অর্থাৎ কাগজে-কলমে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় দেখালেও বাস্তবে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি থেকে যায়।

    এই ধরনের বক্তব্য সংসদে গুরুত্ব পাওয়ার কারণ হলো, অর্থনীতি নিয়ে অনেক সময় সাধারণ আলোচনায় রাজনৈতিক স্লোগান বেশি থাকে, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ কম থাকে। রেজা কিবরিয়ার বক্তব্য সেই জায়গায় একটি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। তিনি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

    সংসদে তোষামোদের বিরোধিতা

    জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনেন। তিনি বলেন, সংসদ তোষামোদের জায়গা নয়; এটি দায়িত্ব পালনের জায়গা। অতীতে সংসদে ব্যক্তিবন্দনার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সেটিকে তিনি অপসংস্কৃতি হিসেবে আখ্যা দেন।

    এই বক্তব্য শুধু একটি দলের সমালোচনা নয়; বরং সংসদের চরিত্র নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন তোলে। সংসদ কি জনগণের সমস্যার কথা বলবে, নাকি ক্ষমতার কেন্দ্রকে খুশি করার ভাষা তৈরি করবে? সংসদ কি নীতি, বাজেট, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীর আলোচনা করবে, নাকি প্রশংসা আর ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির জায়গা হয়ে থাকবে?

    শফিকুর রহমানের বক্তব্যে যে বার্তাটি স্পষ্ট, তা হলো—সংসদকে আবার জনগণের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল, শালীন এবং জবাবদিহিমূলক হতে হবে।

    বিশ্লেষকদের চোখে নতুন রাজনৈতিক ইঙ্গিত

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের এই সমালোচনা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক। কারণ একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরে মতপ্রকাশের সুযোগ না থাকলে নেতৃত্ব ধীরে ধীরে একমুখী হয়ে যায়। সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল হলেও তা সংশোধনের পথ সংকুচিত হয়।

    একটি দল তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার ভেতরে মতপার্থক্য প্রকাশের জায়গা থাকে। ভিন্নমত মানেই বিদ্রোহ নয়। সমালোচনা মানেই দলবিরোধী অবস্থান নয়। বরং যুক্তিসংগত সমালোচনা দলকে ভুল থেকে ফেরাতে পারে, মন্ত্রীদের সতর্ক রাখতে পারে এবং সরকারকে জনগণের কাছে আরও দায়বদ্ধ করতে পারে।

    এই কারণে সংসদে মন্ত্রীদের প্রশ্নের মুখে পড়া গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর লক্ষণ হতে পারে। তবে এটি কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে জনগণের আস্থা তৈরি হবে না। বাস্তব পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত এই চর্চার মূল্য নির্ধারণ করবে।

    মন্ত্রীদের জন্য কী বার্তা?

    ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্য মন্ত্রীদের জন্য পরিষ্কার বার্তা দেয়। সেটি হলো—শুধু দলীয় পরিচয় বা মন্ত্রিত্বের পদ দিয়ে দায়িত্ব এড়ানো যাবে না। মন্ত্রণালয়ের কাজ, নীতি বাস্তবায়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনগণের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে জবাব দিতে হবে।

    আগে মন্ত্রীরা অনেক সময় বিরোধী দলের সমালোচনাকে রাজনৈতিক বিরোধিতা হিসেবে দেখতেন। কিন্তু নিজ দলের সদস্যরাই যখন প্রশ্ন তোলেন, তখন সেটিকে সহজে এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়। কারণ এই প্রশ্ন দলীয় মঞ্চের বাইরে, সরাসরি জাতীয় সংসদে উঠছে। জনগণও তা দেখছে, শুনছে এবং মূল্যায়ন করছে।

    মন্ত্রীদের জন্য এটি সতর্কবার্তা—কথার চেয়ে কাজে প্রমাণ দিতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা থাকলে উত্তর দিতে হবে। ব্যাংকিং খাতে সংকট থাকলে পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বলতা থাকলে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

    জনগণ শুধু বক্তব্য নয়, ফলাফল দেখতে চায়

    সংসদে সুন্দর বক্তব্য, শক্তিশালী সমালোচনা বা সাহসী মন্তব্য—এসব জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত জানতে চায়, এসব কথার ফল কী হলো।

    মাদক নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মাদক নিয়ন্ত্রণে বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। খেলাপি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, জনগণ সেটিই দেখতে চায়। সংসদে তোষামোদের বিরোধিতা করা হলে ভবিষ্যৎ অধিবেশনে সত্যিই কি নীতিগত আলোচনা বাড়ছে, সেটিও দেখার বিষয়।

    অর্থাৎ এই নতুন রাজনৈতিক ভাষা তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা নীতিতে, প্রশাসনে এবং বাস্তব সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হবে।

    বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থান

    ক্ষমতাসীন দলের ভেতর থেকে মন্ত্রীদের সমালোচনা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যে বোঝা যায়, তাঁরা এই চর্চাকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখাতে চান।

    বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দলটি গণতান্ত্রিক চর্চাকে সম্মান করে এবং দলীয় সংসদ সদস্যদের সমালোচনাকে নেতিবাচকভাবে দেখে না। অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা বলছেন, গঠনমূলক সমালোচনা সরকারকে সঠিক পথে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

    এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অবস্থান কতটা স্থায়ী হবে। যখন সমালোচনা অস্বস্তিকর হবে, যখন মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসবে, তখনও কি একই সহনশীলতা থাকবে? গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির আসল পরীক্ষা সেখানেই।

    এটি কি সত্যিই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি?

    বর্তমান সংসদের এই চিত্রকে অনেকে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির শুরু হিসেবে দেখতে চাইছেন। তবে সাবধানতা দরকার। কয়েকটি বক্তব্য দিয়ে কোনো সংস্কৃতি স্থায়ী হয় না। সংস্কৃতি তৈরি হয় ধারাবাহিকতা, সহনশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে।

    সংসদে সমালোচনা থাকতে হবে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে সক্রিয় হতে হবে। মন্ত্রণালয়গুলোর কাজ নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে। বাজেট বরাদ্দ কোথায় যাচ্ছে, প্রকল্প কেন পিছিয়ে যাচ্ছে, দুর্নীতির অভিযোগ কীভাবে তদন্ত হচ্ছে—এসব বিষয়ে সংসদীয় নজরদারি বাড়াতে হবে।

    শুধু বক্তৃতা নয়, জবাবদিহির কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে। তা না হলে সংসদের সমালোচনাও একসময় রাজনৈতিক অভিনয়ে পরিণত হতে পারে।

    সামনে যে প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ

    এই পরিবর্তনের পর কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসে।

    প্রথমত, ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা কি ভবিষ্যতেও মন্ত্রীদের ব্যর্থতা নিয়ে একইভাবে কথা বলতে পারবেন?

    দ্বিতীয়ত, মন্ত্রীরা এসব সমালোচনাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে দেখবেন, নাকি নীতিগত সতর্কতা হিসেবে গ্রহণ করবেন?

    তৃতীয়ত, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব কি সমালোচনাকে সহ্য করবে, নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে?

    চতুর্থত, জনগণ কি এই আলোচনার বাস্তব ফল পাবে?

    এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে, সংসদে দেখা দেওয়া এই পরিবর্তন সাময়িক না স্থায়ী।

    শেষ কথা

    জাতীয় সংসদ যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিষ্ঠান হতে চায়, তাহলে সেখানে প্রশংসার পাশাপাশি প্রশ্ন থাকতে হবে। মন্ত্রীদের সাফল্য যেমন বলা যাবে, তেমনি ব্যর্থতাও তুলে ধরতে হবে। সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা যেমন গণতন্ত্রের অংশ, তেমনি সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়াও গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত।

    ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের সাম্প্রতিক সমালোচনা তাই শুধু কয়েকটি বক্তব্য নয়; এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা। বার্তাটি হলো—জনগণের প্রতিনিধি হতে হলে জনগণের কথা বলতে হবে, মন্ত্রীর নয়; রাষ্ট্রের স্বার্থ দেখতে হবে, ব্যক্তির নয়; জবাবদিহি চাইতে হবে, তোষামোদ নয়।

    তবে এই বার্তার সত্যিকারের মূল্য নির্ভর করবে বাস্তব পরিবর্তনের ওপর। সংসদে প্রশ্ন উঠেছে—এবার দেখা দরকার, জবাব আসে কি না। আর জবাব এলেও তা শুধু কথায় থাকে, নাকি কাজে প্রমাণিত হয়।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    কোনো এলাকায় দুর্যোগ হলে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা পেছাতে পারে

    জুন 30, 2026
    বাংলাদেশ

    মানবতাবিরোধী মামলায় ইনুর ৩০ বছরের কারাদণ্ড

    জুন 30, 2026
    বাংলাদেশ

    জ্বালানি সাশ্রয়ে নিভল শিখা অনির্বাণের শিখা

    জুন 30, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.