সরকারি অনুষ্ঠান উপলক্ষে তৈরি ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর থ্রিডি বা অন্য কোনো বিশেষ নকশার ছবি ব্যবহার করা যাবে না। এ ধরনের উপস্থাপনাকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সঙ্গে সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচারসামগ্রী তৈরিতে বিষয়বস্তুর গুরুত্ব ও তথ্যের যথাযথ উপস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রোববার জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, মূল বার্তা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। নকশা হবে সংযত, ভারসাম্যপূর্ণ এবং অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক। অপ্রয়োজনীয় অলংকরণ বা বিশেষ ধরনের উপস্থাপনার পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক নকশাকে অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ছবি থ্রিডি বা অন্য কোনো বিশেষ আঙ্গিকে ব্যবহার করা যাবে না। নতুন এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে তা অনুসরণ করতে হবে।
নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সিনিয়র সচিব এবং সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছে পরিপত্র পাঠানো হয়েছে। তাঁদের অধীনস্থ দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থাগুলোতেও বিষয়টি দ্রুত জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও নির্দেশনার অনুলিপি পাঠানো হয়েছে, যাতে কেন্দ্র থেকে মাঠ প্রশাসনের সব স্তরে একই নীতিমালা অনুসরণ করা হয়।
প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচারসামগ্রীতে একক নকশা ও উপস্থাপনার মানদণ্ড নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং সরকারি প্রচারসামগ্রীর নকশায় অপ্রয়োজনীয় অলংকরণ বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক উপস্থাপনা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্পষ্ট বার্তা, তথ্যনির্ভর উপস্থাপনা এবং অভিন্ন নকশা নীতিমালা অনুসরণ করলে সরকারি অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের কাছে তথ্য আরও কার্যকরভাবে পৌঁছানো সম্ভব হবে। নতুন নির্দেশনা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের দিকেই একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

