জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসকে সামনে রেখে দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে সরকার। এ উপলক্ষে রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হয় একটি উদ্বোধনী খাম এবং ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডেটাকার্ড।
এ বছরের জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। সরকারের মতে, গ্রামীণ অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় উদ্যোগের বিকাশ এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে চলমান কর্মকাণ্ডকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এ ধরনের স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও ডেটাকার্ড প্রকাশ করেছে। এগুলো শুধু ডাক ব্যবস্থার অংশ নয়, বরং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস, ঐতিহাসিক ঘটনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে প্রতি বছর ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়। দিবসটির মূল লক্ষ্য গ্রামীণ উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সমবায় কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তোলার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো।
ডাকটিকিটকে দীর্ঘদিন ধরেই একটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় অর্জনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের মাধ্যমে একদিকে যেমন সংগ্রাহকদের জন্য নতুন সংযোজন তৈরি হয়, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও দেশের উন্নয়নযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ পায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রামীণ উন্নয়ন এখন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষির আধুনিকায়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার মতো বিষয়। জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এই স্মারক ডাকটিকিট সেই অগ্রযাত্রার প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

