মিয়ানমারের চলমান সংঘাত এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করেছে। রোববার (৫ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে দেশটির সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগও বেড়েছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়েই সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
আলোচনার সময় এক সাংবাদিক জানতে চান, আরাকান আর্মির প্রধান আহত হয়ে বাংলাদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন—এমন যে খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য রয়েছে কি না। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য তার কাছে নেই।
মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও মানবিক ইস্যু। অতীতে সংঘাতের জেরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। তাই সীমান্ত পরিস্থিতির সামান্য অবনতিও নতুন অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি করে।
এ অবস্থায় সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি সরকারের সতর্ক অবস্থানেরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়াও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

