ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
আজ রোববার মিরপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম জানান, দুপুরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গেলে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত পাশের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া গ্রামে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি তিনি প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সাহিত্য সমালোচক হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন।
তার কর্মজীবনে ২০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, রাজনীতি দর্শন, সাহিত্য চিন্তা এবং সংস্কৃতির সহজ কথা।
শুধু লেখালেখিতেই নয়, সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি সুন্দরম ও লোকায়ত নামে দুটি সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেছেন। পাশাপাশি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবিতে সক্রিয় থেকে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটি’র আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। পরে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সরকার তাকে তিন বছরের জন্য বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি একটি বড় শোকের মধ্য দিয়ে গেছেন। তার একমাত্র ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপন ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে নিজ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

