কক্সবাজারে বিভিন্ন মাদক মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জব্দ করা প্রায় ৯২ কোটি ৪৯ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যে ধ্বংস করেছে আদালত। একদিনে এত বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংসের ঘটনা জেলার বিচারিক ইতিহাসে নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আশেক এলাহী শাহজাহান নুরী। আদালত সূত্র জানায়, গত ১৪ জুলাই ২০২৬ দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে মাদক ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী এ কার্যক্রমে বিভিন্ন মামলায় জব্দ করা মোট ৯২ কোটি ৪৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
মাদক ধ্বংসের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় আদালত গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে। কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইরফানুল হক চৌধুরী। কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এবং জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হাসান। এছাড়া কক্সবাজার জিআরও শাখার কোর্ট ইন্সপেক্টর শাহ আলম, বিচার বিভাগের কর্মকর্তা এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ধ্বংস করা হয়েছে ছয় ধরনের মাদক: জেলার বিভিন্ন থানা এবং স্থল ও নৌ সীমান্তে পরিচালিত অভিযানে জব্দ হওয়া ছয় ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- ইয়াবা ট্যাবলেট: ২০ লাখ ৮০ হাজার ৬১৮টি
- ক্রিস্টাল মেথ (আইস): ৫ কেজি ৯৯০ গ্রাম
- দেশীয় চোলাই মদ: ৯৮০ দশমিক ৫০ লিটার
- বিদেশি মদ: ১২২ বোতল
- বিদেশি বিয়ার: ১ হাজার ৪৫৮ ক্যান
- ফেনসিডিল: ১৩৩ বোতল
আইন ও প্রশাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে বিপুল পরিমাণ মাদক আদালতের মালখানায় সংরক্ষণ করতে হয়, যা নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে। এ ধরনের নিয়মিত ধ্বংস কার্যক্রম সেই চাপ কমাতে সহায়ক হবে। তাদের মতে, পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার ঠেকানোর প্রচেষ্টার পাশাপাশি আদালতের মালখানায় জমে থাকা মাদকদ্রব্য দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

