চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার বারোঘরিয়া ইউনিয়নের বাদুরতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্বজনকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়ে আরও দুজন প্রাণ হারানোয় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন—হাসিনা বেগম (৫২), তার ভাতিজি আশা খাতুন (২৬) এবং আশার মেয়ে মিম আক্তার (১৩)। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হাসিনা বেগম একটি লোহার মই ব্যবহার করে বাড়ির ছাদে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। সে সময় অজান্তেই তিনি এমন একটি লোহার মই স্পর্শ করেন, যা আগে থেকেই বিদ্যুৎপ্রবাহে আক্রান্ত ছিল। সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং আটকে পড়েন।
হাসিনা বেগমকে বিপদে দেখে দ্রুত তাকে উদ্ধার করতে ছুটে যান তার ভাতিজি আশা খাতুন। কিন্তু তিনিও একইভাবে বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে আটকে যান। মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আশার মেয়ে মিম আক্তারও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। অল্প কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই একের পর এক তিনজনই প্রাণ হারান।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাদের উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তিনজনেরই মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কীভাবে লোহার মইটি বিদ্যুতায়িত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটি, অসতর্কতা বা অন্য কোনো কারিগরি কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাড়ির আশপাশে বৈদ্যুতিক সংযোগ, খোলা তার কিংবা ধাতব বস্তু ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষ করে বর্ষাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। একই পরিবারের তিন সদস্যকে একসঙ্গে হারানোর এই দুর্ঘটনা এলাকায় গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে।

