বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম গুমের অভিযোগ হিসেবে আলোচনায় এসেছে বাগেরহাটের মোংলার যুবক মিরাজ শেখের নিখোঁজের ঘটনা। কোস্টগার্ড পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল—পরিবারের এমন অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মোংলা থানা।
নিখোঁজ মিরাজ শেখের বয়স ৩০ বছর। তিনি মোংলার জয়মণি গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তার স্ত্রী মুক্তা খানম কোস্টগার্ডের পন্টুনে গিয়ে দেখেন, মিরাজকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছে। পরে তাকে স্পিডবোটে করে হাড়বাড়িয়া ক্যাম্পের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের ভাষ্য, প্রথমে মিরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলেও পরদিন সেখানে গিয়ে বিষয়টি অস্বীকার করেন দায়িত্বে থাকা নতুন সদস্যরা। মিরাজের বোনের অভিযোগ, তার মোটরসাইকেলও কোস্টগার্ড সদস্যরা নিয়ে গিয়েছিলেন।
তবে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, নিখোঁজের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোস্টগার্ডের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, মিরাজের স্ত্রী গত ২১ এপ্রিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চলছে। মোবাইল ফোনের অবস্থান, চলাচলের তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করা হলেও এখনো তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওসি জানান, মিরাজের সর্বশেষ মোবাইল লোকেশন তার নিজ বাড়ি জয়মণি গ্রামেই পাওয়া গেছে। এরপর থেকে তার মোবাইল আর সক্রিয় হয়নি। নিখোঁজের বিষয়ে স্ত্রী, স্বজন ও প্রতিবেশীসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কোস্টগার্ডের পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তদন্তে সব সম্ভাবনাই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) মিরাজ শেখের ঘটনাকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশের প্রথম গুমের অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়েছে।
সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী এক বিবৃতিতে বলেন, আগের সময়ের গুমের সংস্কৃতির প্রভাব এখনো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রয়ে গেছে বলেই এমন অভিযোগ সামনে আসছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুমবিরোধী আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা নিশ্চিত না হলে এবং তদন্তের দায়িত্ব শুধু পুলিশের হাতে থাকলে কার্যকর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা কঠিন হতে পারে। মিরাজ শেখের নিখোঁজের ঘটনায় এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

