রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা শুরু হলেই একটি প্রশ্ন সামনে আসে কোন আইনের ভিত্তিতে একজন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারে?
বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী একজন প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন, ৫ বছরের জন্য। ওয়েস্টমিনিষ্টারের আদলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রাষ্ট্রপতি নামক সাংবিধানিক পদটি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। তবুও রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়া বা পদত্যাগের মতো বিষয়গুলোতে সংবিধান সুস্পষ্ট বিধান নির্ধারণ করেছে, যাতে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি না হয়।
পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। কিন্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে পদত্যাগের ক্ষেত্রে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫০(৩)-এ বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত পত্র প্রদান করে পদত্যাগ করতে পারেন। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি আনুষ্ঠানিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং এর জন্য লিখিত পদত্যাগপত্র অপরিহার্য।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কী হবে?
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৪ কার্যকর হয়। এ বিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এই ব্যবস্থা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হওয়া থেকে বিরত রাখে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে।
অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণের ক্ষেত্রেও সংবিধানে পৃথক বিধান রয়েছে। অনুচ্ছেদ ৫২ অনুযায়ী, সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে জাতীয় সংসদ নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ করতে পারে। অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সাবেক রাষ্ট্রপতিদের জন্য নির্ধারিত সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
সংক্ষেপে বলা যায়, সংবিধান তিনটি ভিন্ন পথ নির্দেশ করে — স্বেচ্ছায় পদত্যাগ (অনুচ্ছেদ ৫০), মেয়াদ শেষে বা অসুস্থতাজনিত কারণে পদ শূন্য হওয়া (অনুচ্ছেদ ৫৪), এবং জোরপূর্বক অপসারণ বা অভিশংসন (অনুচ্ছেদ ৫২)। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংবিধান রাষ্ট্রীয় শূন্যতা এড়াতে সুস্পষ্ট বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলে।

