চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য খালাসে আর ছুটির দিন শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে না। এখন থেকে সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা শুল্কায়ন কার্যক্রম চালু থাকবে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে। শুক্রবার, শনিবারসহ সরকারি ছুটির দিনেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) কাস্টমস কমিশনারের পক্ষে কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা।
দাপ্তরিক আদেশে বলা হয়েছে, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য গতিশীল রাখা এবং পণ্য সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এবং সপ্তাহের সাত দিন শুল্কায়ন কার্যক্রম চালু থাকবে। বন্দর দিয়ে আমদানি করা পণ্যচালান যাতে কোনো ধরনের জটিলতা বা বিলম্ব ছাড়াই দ্রুত খালাস করা যায়, সে লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও শুল্কায়ন সেবা অব্যাহত থাকবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। ছুটির কারণে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া আটকে পণ্য খালাসে অতিরিক্ত সময় লাগার সুযোগ এখন আর থাকবে না।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বাস্তব অর্থনৈতিক কারণ। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি পণ্য পরিবহন হয়। কিন্তু এতদিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শুল্কায়ন বন্ধ থাকলে বন্দরে কন্টেইনার জমে থাকত। এর ফলে আমদানিকারকদের ডেমারেজ চার্জ দিতে হতো, কন্টেইনার ডিপোতে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হতো এবং উৎপাদন কারখানায় কাঁচামাল পৌঁছাতে বিলম্ব হতো। সেইসঙ্গে বন্দরে কন্টেইনার জট বেড়ে যেত, যা জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম বাড়িয়ে দিত। নতুন এই সিদ্ধান্তে সেই সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এই আদেশের অনুলিপি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, বেপজা, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকেও আদেশের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে এফবিসিসিআই, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, চিটাগাং মেট্রোপলিটন চেম্বার, উইমেন চেম্বার, তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন, শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশন।
এই উদ্যোগকে ব্যবসায়ীরা স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সার্বক্ষণিক শুল্কায়ন চালু হলে আমদানি পণ্য খালাসে গতি আসবে, বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে এবং ব্যবসার খরচ কমবে। তবে কাস্টমস কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই সেবা সফলভাবে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গত আগস্টে চট্টগ্রাম কাস্টমসের আওতাধীন ১৭টি স্টেশন ২৪ ঘণ্টা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এখন কাস্টমস হাউস পুরোপুরি ২৪ ঘণ্টা চালু হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক কর্মদক্ষতা বাড়বে বলে আশা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। এই সিদ্ধান্ত যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে গতিশীলতা বাড়বে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।

