প্রায় বাহাত্তর লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা একটি মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালতের বিচারক দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ দেন, যা নিশ্চিত করেছেন দুদকের সংশ্লিষ্ন আইনজীবী। এদিন আদালতে সাহেদের আইনজীবী তার জামিনের আবেদন করলেও সেই আবেদনের ওপর শুনানি হয়নি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের মার্চে দুদকের একজন উপপরিচালক বাদী হয়ে এই মামলার এজাহার দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দুদকের একজন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাহেদ ও তার স্ত্রী সাদিয়া আরবীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাদিয়া আরবী ২০২০ সালের শেষদিকে দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে প্রায় একষট্টি লাখ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, তার নামে প্রকৃতপক্ষে প্রায় ছিয়াত্তর লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে—অর্থাৎ তিনি প্রায় পনেরো লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। পারিবারিক ব্যয় যুক্ত করলে তার অর্জিত সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় আটাত্তর লাখ টাকা, যেখানে তার আয়কর নথিতে দেখানো মোট আয়ের পরিমাণ ছিল সাড়ে চার লাখ টাকা। ফলে তদন্তে প্রমাণিত হয়, তার প্রায় তিয়াত্তর লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের বাইরে অর্জিত।
তদন্তে আরও উঠে আসে, সাদিয়া আরবীর নিজস্ব কোনো নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস ছিল না, এবং তার স্বামী মোহাম্মদ সাহেদ অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ স্ত্রীর নামে হস্তান্তর ও গোপন করে তাকে সম্পদ অর্জনে সরাসরি সহায়তা করেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির নির্দিষ্ট কয়েকটি ধারায় তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় চার্জ গঠনের আবেদন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ সাহেদ বিভিন্ন জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় ইতিমধ্যে একাধিকবার সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। অস্ত্র মামলা ও চেক ডিজঅনারের মামলায় সাজাসহ বিভিন্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে একাধিক পরোয়ানা বিদ্যমান। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর একবার মুক্তি পেলেও পরে একটি পরোয়ানায় তাকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একটি ব্যাংকের ঋণখেলাপি ও চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সাজা সংক্রান্ত পরোয়ানায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে একাধিক মামলায় সাজা ও পরোয়ানা বহাল থাকায় তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

