বাংলাদেশের স্টিল শিল্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। দেশের অন্যতম শীর্ষ স্টিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের স্টিল (একেএস) এক মিনিটে সর্বাধিক স্টিল রিবার উৎপাদন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছে। এই অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের দ্রুততম রিবার উৎপাদন সক্ষমতার স্বীকৃতি পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ সাফল্য শুধু একেএস-এর জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের স্টিল শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, উৎপাদন দক্ষতা এবং বিশ্বমানের শিল্প ব্যবস্থাপনারও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, একেএস মাত্র এক মিনিটে ৫২টি স্টিল রিবার উৎপাদন করেছে। প্রতিটি রিবারের দৈর্ঘ্য ছিল ১০৮ মিটার। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রোলিং মিল, দক্ষ প্রকৌশল দল এবং সমন্বিত উৎপাদন ব্যবস্থাপনার ফলে এই রেকর্ড গড়া সম্ভব হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস (ইএএফ) প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে শতভাগ পরিশোধিত (রিফাইন্ড) স্টিল উৎপাদন করা হয় বলে জানিয়েছে একেএস।
এ বিষয়ে আবুল খায়ের স্টিল মেল্টিং লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান মোমিন বলেন, এই বিশ্বরেকর্ড শুধু প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বড় মাইলফলক নয়, বরং বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের সক্ষমতা ও সম্ভাবনারও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তিনি বলেন, বিশ্বমানের প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং উৎকর্ষ অর্জনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উচ্চমানের স্টিল উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি অব্যাহত থাকবে।
উৎপাদন সক্ষমতার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। একেএস জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাদের কারখানাতেই জিরো ওয়াটার ডিসচার্জ প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহৃত সব শিল্প পানি পরিশোধন করে পুনর্ব্যবহার করা হয়।
এ ছাড়া সৌরশক্তির ব্যবহার, আধুনিক ফিউম ট্রিটমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণের পুনর্ব্যবহার এবং নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই শিল্পায়নের সমন্বিত মডেল গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আবাসন, শিল্পকারখানা এবং বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে স্টিল সরবরাহ করে আসছে আবুল খায়ের স্টিল। নির্ভরযোগ্য পণ্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের নির্মাণ খাতে একটি পরিচিত ও আস্থার নাম হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।

