Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, জুলাই 28, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগ, সরকারের উদ্দেশ্য কী?
    বাংলাদেশ

    সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগ, সরকারের উদ্দেশ্য কী?

    নিউজ ডেস্কUpdated:জুলাই 28, 2026জুলাই 28, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    সরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা দায়িত্ব পাবেন, তা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি এবং জনগণের আস্থার প্রশ্নও জড়িয়ে থাকে। সেই কারণে ১১টি সরকারি সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাদের এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব নিয়োগ দেয়। নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দ্বিতীয় গ্রেডের পদমর্যাদা পাবেন এবং যোগদানের দিন থেকে তাঁদের মেয়াদ হবে এক বছর। ইতিমধ্যে নবনিযুক্ত ব্যক্তিদের কয়েকজন গতকাল রোববার নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন।

    সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রাজনীতিবিদ নিয়োগ আইনবিরোধী নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনে সরকারকে চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে আইনগত সুযোগ থাকলেও একসঙ্গে এতগুলো প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বসানো কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

    একটি নিয়োগ আইনসম্মত হলেই তা প্রশাসনিকভাবে যথার্থ, নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। মূল প্রশ্ন হলো, যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সংশ্লিষ্ট খাত সম্পর্কে ধারণা কতটা রয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের কাজের জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

    একসঙ্গে এত রাজনৈতিক নিয়োগ আগে দেখা যায়নি

    বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রাজনীতিবিদদের বসানো হয়েছিল। পরবর্তী বিভিন্ন সরকারের সময়েও বিচ্ছিন্নভাবে এমন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    তবে আগের নিয়োগগুলো সাধারণত সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ ছিল। এবার একই সময়ে ১১টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ায় বিষয়টি ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বোর্ড, করপোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে সচিব, অতিরিক্ত সচিব কিংবা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার রীতি তৈরি হয়েছিল। সেই প্রচলিত ধারা থেকে সরে গিয়ে সরকার এবার সরাসরি রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব দিয়েছে।

    এই পরিবর্তনকে কেউ দেখছেন প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটানোর চেষ্টা হিসেবে। আবার কেউ মনে করছেন, এর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রভাব আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    কার দায়িত্ব কোথায়

    বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহীর সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

    বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবদুল বারীকে।

    বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়েছেন বিএনপির সহ-বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০২০-এর ১৯(২) ধারা অনুযায়ী তাঁকে দ্বিতীয় গ্রেডের পদমর্যাদায় এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পেয়েছেন যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাকির হোসেন।

    বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসান।

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক করা হয়েছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাহ্উদ্দিন সরকারকে।

    বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হক।

    জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. কামরুজ্জামানকে।

    বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক।

    বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পেয়েছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান।

    বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন আইন, ২০২৩-এর ১২(২) ধারা অনুযায়ী তাঁকে দ্বিতীয় গ্রেডের পদমর্যাদায় এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন সামসুল আলম। তিনি এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে অবসরে গিয়েছিলেন।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডসহ আরও কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনীতিবিদদের নিয়োগ দেওয়ার চিন্তাভাবনাও চলছে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত নিল সরকার

    আমলাদের পরিবর্তে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসানোর পেছনে মোটাদাগে তিনটি কারণের কথা জানা যাচ্ছে।

    প্রথম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে দলীয় নেতাদের রাজনৈতিক মূল্যায়নের বিষয়টি। বিগত সরকারের সময়ে আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অনেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

    তাঁদের মধ্যে কেউ দলীয় মনোনয়ন পাননি। আবার কাউকে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যেতে হয়েছিল। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে তাঁদের রাজনৈতিক অবদানের মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    দ্বিতীয় কারণটি প্রশাসনের ওপর সরকারের আস্থার সংকট। সরকারের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য আমলাদের মধ্যে পর্যাপ্তসংখ্যক বিশ্বস্ত ব্যক্তি পাওয়া যাচ্ছে না।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, প্রশাসনে যে গতি আসার কথা ছিল, তা এখনো আসেনি। গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার মতো আস্থাভাজন কর্মকর্তার সংকটও রয়েছে। সে কারণেই সরকার প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    তৃতীয় কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিন আমলাদের দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান লোকসান, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, ধীরগতির সিদ্ধান্ত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতার মধ্যে রয়েছে।

    সরকারের ধারণা হতে পারে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে আসা ব্যক্তিরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারবেন।

    তবে এই তিনটি কারণের কোনটিকে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    রাজনৈতিক মূল্যায়ন নাকি প্রশাসনিক প্রয়োজন

    দলীয় আন্দোলনে অবদান রাখা নেতাদের মূল্যায়ন করা রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। দল চাইলে তাঁদের সাংগঠনিক পদ, সংসদীয় দায়িত্ব কিংবা দলীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দিতে পারে।

    কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান নয়। তাই সেখানে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় অবদানের চেয়ে পেশাগত দক্ষতা, সততা ও সংশ্লিষ্ট খাতের অভিজ্ঞতা বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা।

    যদি রাজনৈতিক ত্যাগ বা দলীয় আনুগত্য সরকারি পদ পাওয়ার অন্যতম যোগ্যতা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীন দলগুলো একই পদ্ধতি অনুসরণ করার সুযোগ পাবে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের জায়গায় পরিণত হতে পারে।

    অন্যদিকে, রাজনীতিবিদ হলেই কেউ অযোগ্য হবেন, এমন ধারণাও ঠিক নয়। অনেক রাজনীতিবিদের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক কিংবা খাতভিত্তিক দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে বড় প্রতিষ্ঠান পরিচালনাও করেছেন।

    সুতরাং মূল বিচার হওয়া উচিত ব্যক্তি রাজনীতিবিদ কি না, সেটি নয়। বরং তিনি যে প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের সমস্যা বুঝতে এবং কার্যকরভাবে সমাধান করতে তাঁর প্রয়োজনীয় জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

    আমলাদের ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন আছে

    সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনীতিবিদদের নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা হলেও দীর্ঘদিনের আমলানির্ভর ব্যবস্থাও খুব সফল ছিল—এমন দাবি করা কঠিন।

    অনেক সরকারি বোর্ড ও করপোরেশনে সংশ্লিষ্ট খাত সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান নেই, এমন কর্মকর্তাদেরও চেয়ারম্যান বা প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একজন কর্মকর্তা হয়তো এক মন্ত্রণালয়ে কাজ করার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পেয়েছেন।

    ফলে শুধু প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি, আর্থিক বা বাজারসংক্রান্ত বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে গেছে। অনেক সময় কর্মকর্তা দায়িত্ব বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

    সাবেক একজন অর্থসচিবও বলেছেন, অতিরিক্ত সচিবদের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার সময় সব ক্ষেত্রে দক্ষতা ও খাতভিত্তিক জ্ঞান বিবেচনা করা হতো না।

    তাই বর্তমান বিতর্ককে শুধু আমলা বনাম রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখলে সমস্যার পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। প্রকৃত প্রশ্ন হওয়া উচিত, সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক এবং যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা রয়েছে কি না।

    নবনিযুক্ত ব্যক্তিরা পরিবর্তনের কথা বলছেন

    বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে এক বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া বেনজীর আহমেদ বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি অনেক আগে গড়ে উঠলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

    দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্পনগরী নির্মাণ করা হলেও অনেক জায়গায় সেগুলো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। কোথাও প্লট বরাদ্দ নেওয়ার পরও খালি ফেলে রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর করতে চায় এবং সেই লক্ষ্যেই তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছে।

    বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলামও প্রতিষ্ঠানটির দুর্বল অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন।

    তাঁর বক্তব্য হলো, অনেক আমলা ঝুঁকি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান না। জনগণের স্বার্থে কাজ করতে হলে অনেক সময় সাহসী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে বর্তমান দুর্বল অবস্থা থেকে উন্নত অবস্থায় নিয়ে যেতে চান।

    নবনিযুক্তদের এসব বক্তব্য আশাবাদী শোনালেও প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তাঁদের কাজের ভিত্তিতে। তাঁরা প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতি, অপচয় ও স্থবিরতা কতটা কমাতে পারেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্বেগ

    সরকারি প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে এত রাজনৈতিক ব্যক্তির নিয়োগ প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা ভালোভাবে দেখছেন না। তাঁদের আশঙ্কা, এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় তদবির ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে।

    একজন রাজনৈতিক নেতা যখন সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসেন, তখন তাঁর কাছে দলীয় নেতা-কর্মী, পরিচিত ব্যক্তি কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালীদের নানা ধরনের দাবি আসতে পারে। নিয়োগ, বদলি, ঠিকাদারি, প্রকল্প অনুমোদন, জমি বা প্লট বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    একজন পেশাদার সরকারি কর্মকর্তা বিধি ও চাকরির শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে এমন চাপ মোকাবিলা করেন। রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি একইভাবে চাপ সামলাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

    প্রশাসনের কর্মকর্তারা জবাবদিহির বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কোনো সরকারি কর্মকর্তা অনিয়ম করলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। চাকরিচ্যুতি, পদাবনতি কিংবা পেনশন আটকে দেওয়ার মতো শাস্তির সুযোগও রয়েছে।

    কিন্তু এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি অনিয়ম করলে তাঁর বিরুদ্ধে কোন প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়।

    চুক্তি বাতিল করা সম্ভব হলেও অনিয়মের ক্ষতি পুনরুদ্ধার, রাজনৈতিক প্রভাব থেকে তদন্তকে মুক্ত রাখা এবং ভবিষ্যৎ দায় নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে।

    আইনে বাধা নেই, কিন্তু যোগ্যতার শর্ত দুর্বল

    বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন আইন, ২০২৩-এ বলা হয়েছে, করপোরেশনের চেয়ারম্যান সরকার নিয়োগ করবে এবং তাঁর চাকরির শর্ত সরকার নির্ধারণ করবে।

    নৈতিক স্খলনের কারণে আদালতে দণ্ডিত, আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত কিংবা চাকরি থেকে অপসারিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিতে আইনে বড় কোনো বাধা নেই।

    বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট, তাঁত বোর্ডসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনেও সরকারকে প্রায় একই ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

    এই আইনি সুযোগের কারণে বর্তমান নিয়োগগুলোকে সরাসরি বেআইনি বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আইনগুলোতে সংশ্লিষ্ট খাতের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতার স্পষ্ট শর্ত না থাকায় অপব্যবহারের সুযোগ থেকে যায়।

    আইনে যদি বলা থাকত, সংশ্লিষ্ট খাতে নির্দিষ্টসংখ্যক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে কিংবা একটি স্বাধীন বাছাই কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দিতে হবে, তাহলে রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ কমে আসত।

    সাবেক সচিব এবং বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেছেন, এমন নিয়োগে আইনগত বাধা নেই। স্বাধীনতার পরও রাজনীতিবিদদের সরকারি প্রতিষ্ঠানে বসানো হয়েছিল। তবে একসঙ্গে এতজনকে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা আগে দেখা যায়নি।

    তিনি এ সিদ্ধান্তকে একটি পরীক্ষার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন। তাঁর মতে, এখন বোঝা যাবে আমলারা সরকারি প্রতিষ্ঠান ভালো চালান, নাকি রাজনীতিবিদেরা ভালো ফল দেখাতে পারেন।

    সবচেয়ে বড় প্রশ্ন জবাবদিহি নিয়ে

    নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এক বছরের মধ্যে কোন লক্ষ্য অর্জন করবেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের দায়িত্বের সাফল্য পরিমাপের জন্য সুস্পষ্ট মানদণ্ডও সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়নি।

    প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আলাদা কর্মপরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। কোন প্রতিষ্ঠান কত লোকসান কমাবে, কত নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে, কতগুলো বন্ধ প্রকল্প চালু করবে অথবা কত দিনের মধ্যে সেবার মান বাড়াবে—এসব লক্ষ্য আগে থেকেই নির্ধারিত থাকা উচিত।

    এক বছর শেষে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে তাঁদের সফল বা ব্যর্থ বলা ঠিক হবে না। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে।

    প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের হার, অনিয়মের অভিযোগ, কর্মীদের দক্ষতা, জনগণের সেবা এবং আর্থিক সাশ্রয়—এসব বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা দরকার।

    একই সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্তদের সম্পদ বিবরণী এবং সম্ভাব্য স্বার্থের দ্বন্দ্বের তথ্যও প্রকাশ করা যেতে পারে। তাঁদের পরিবারের কেউ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি, সরবরাহ বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হলে সেটি আগেই জানানো প্রয়োজন।

    নিয়োগের মাধ্যমে সরকার কী বার্তা দিল

    এই নিয়োগের মাধ্যমে সরকার কয়েকটি বার্তা দিয়েছে বলে মনে হতে পারে।

    প্রথমত, সরকার প্রচলিত আমলানির্ভর ব্যবস্থার ওপর পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নতুন ধরনের নেতৃত্ব পরীক্ষা করতে চাইছে।

    দ্বিতীয়ত, দলীয় আন্দোলনে ভূমিকা রাখা এবং নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁদের রাজনৈতিক অবদানকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

    তৃতীয়ত, গুরুত্বপূর্ণ পদে আস্থাভাজন ব্যক্তিদের বসানোর বিষয়টিকে সরকার পেশাগত নিরপেক্ষতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে।

    চতুর্থত, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগব্যবস্থায় যোগ্যতার স্পষ্ট মানদণ্ড না থাকায় রাজনৈতিক বিবেচনা প্রয়োগের সুযোগ কতটা বিস্তৃত, সেটিও সামনে এসেছে।

    এই বার্তাগুলোর মধ্যে কোনটি সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য, তা সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। নীরবতা কিংবা অস্পষ্ট ব্যাখ্যা সন্দেহ আরও বাড়াতে পারে।

    নিয়োগ সফল করতে যা প্রয়োজন

    রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের ওপর দায়িত্বও বেশি। তাঁদের প্রমাণ করতে হবে, নিয়োগটি কেবল রাজনৈতিক পুরস্কার ছিল না।

    প্রথমেই প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক পর্যালোচনা করতে হবে। কোথায় দুর্নীতি, কোথায় অপচয়, কোথায় অদক্ষতা এবং কোথায় সিদ্ধান্তের জট রয়েছে, তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

    দ্বিতীয়ত, দলীয় নেতা-কর্মীদের অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে হবে। নিয়োগ, পদোন্নতি, ঠিকাদারি ও প্রকল্প অনুমোদনে নিয়ম মানতে হবে।

    তৃতীয়ত, এক বছরের জন্য পরিমাপযোগ্য কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা প্রয়োজন। মেয়াদ শেষে সেই পরিকল্পনার আলোকে জনসমক্ষে কাজের হিসাব দিতে হবে।

    চতুর্থত, প্রতিষ্ঠানের পেশাজীবী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিরোধ এবং অস্থিরতা বাড়তে পারে।

    পঞ্চমত, মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা দরকার। শুধু নিয়োগ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।

    শেষ বিচারে কাজই হবে মূল্যায়নের ভিত্তি

    সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনীতিবিদ নিয়োগ আইনগতভাবে সম্ভব। কিন্তু এমন নিয়োগের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে তাঁরা দায়িত্ব পাওয়ার পর কী করেন, তার ওপর।

    নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যদি দুর্নীতি কমাতে পারেন, প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি বাড়াতে পারেন, সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করতে পারেন এবং জনগণের সেবা উন্নত করেন, তাহলে সরকার এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেখাতে পারবে।

    অন্যদিকে, যদি এসব প্রতিষ্ঠান দলীয় তদবির, পক্ষপাতমূলক নিয়োগ, অনিয়ম এবং রাজনৈতিক প্রভাবের নতুন কেন্দ্রে পরিণত হয়, তাহলে এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার জন্য ক্ষতিকর উদাহরণ হয়ে থাকবে।

    সরকারের সামনে তাই বড় দায়িত্ব রয়েছে। শুধু আস্থাভাজন বা রাজনৈতিকভাবে বঞ্চিত ব্যক্তিদের পদ দিলেই হবে না। তাঁদের জন্য সুস্পষ্ট লক্ষ্য, কঠোর জবাবদিহি এবং নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থাও করতে হবে।

    একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং সততার স্পষ্ট মানদণ্ড তৈরি করা প্রয়োজন। একটি স্বাধীন বাছাইব্যবস্থা গড়ে উঠলে আমলা, রাজনীতিবিদ কিংবা বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞ—যে-ই নিয়োগ পান না কেন, জনগণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

    সরকারি প্রতিষ্ঠান কোনো দলের নেতাদের পুনর্বাসনের জায়গা নয়। এগুলো জনগণের প্রতিষ্ঠান। তাই এখানে দায়িত্ব পাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থে কাজ করতে হবে।

    এক বছর পর জনগণ শুধু দেখবে না কে কোন দলের নেতা ছিলেন। তারা দেখবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতি কমেছে কি না, সেবার মান বেড়েছে কি না, সরকারি অর্থ সাশ্রয় হয়েছে কি না এবং সাধারণ মানুষ বাস্তবে উপকৃত হয়েছে কি না। বর্তমান নিয়োগগুলোর সাফল্য বা ব্যর্থতার চূড়ান্ত বিচার সেখানেই হবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    হেপাটাইটিস ‘সি’ আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

    জুলাই 28, 2026
    বাংলাদেশ

    ফিটনেসবিহীন জরাজীর্ণ লঞ্চ আর কার্গো জাহাজে নদীপথে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

    জুলাই 28, 2026
    বাংলাদেশ

    রাইড শেয়ারিংয়ে নীতিমালা আছে, বাস্তবায়ন নেই

    জুলাই 28, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.