গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খান। তার ভাষায়, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন দিল্লিতেই দাফন হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জেলার সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির পরিসমাপ্তি ঘটেছে। তার দাবি, যদি শেখ হাসিনা দেশ না ছাড়তেন, তাহলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে বর্তমান বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ আবারও দেশের মূলধারার রাজনীতিতে ফিরতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না।
মতবিনিময় শেষে বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিয়েও সমালোচনা করেন রাশেদ খান।
তিনি বলেন, ‘এনসিপি নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে তারা নতুন ভণ্ডবস্তের রাজনীতি শুরু করেছে। তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন গঠনমূলক রাজনীতি করে।’
রাশেদ খানের দাবি, বর্তমানে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড জামায়াতের পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না এবং দলীয় নেতাকর্মীদেরও বারবার এ ধরনের রাজনীতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগেও বলেছেন, তার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তিনি কারও মেরুদণ্ড ভাঙতে চান না। তিনি বিশ্বাস করেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশ গড়ে তুলতে হবে।’
রাশেদ খান অভিযোগ করেন, এনসিপির কিছু নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণীকে নিয়ে কটূক্তি করছেন। পাশাপাশি জুলাই পদযাত্রায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সামনে অবমাননাকর মন্তব্য করলে জনগণ তা মেনে নেবে না। সিলেট ও হবিগঞ্জে যেসব প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, সেগুলোও জনগণের অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।’
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য ঘোষণা প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ‘শেখ হাসিনা অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি যদি নেতাকর্মীদের রেখে বিদেশে না যেতেন, তাহলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত। কিন্তু একবার পালিয়ে গেলে আর ফিরে আসা যায় না।’
এর আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মাহফুজ হোসেন, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় রাশেদ খান জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক প্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।

