যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর বাংলাদেশের প্রথম সরকারি সফর শেষ করে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। সফর শেষে তিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগোতে চায়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন সার্জিও গর। বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল। আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর প্রায় ২০ মিনিট পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একান্তে মতবিনিময় করেন তিনি।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সার্জিও গর বলেন, বাংলাদেশে এটি তার প্রথম সরকারি সফর। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে উভয় পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়েছে। উভয় পক্ষই বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুকে ঘিরে বহুমাত্রিক রূপ পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
উল্লেখ্য, সার্জিও গর বর্তমানে ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্বও দিয়েছেন। জানুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বাংলাদেশ সফর। এই সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত করতে পারে।

